চম্পক কুমার, জয়পুরহাট
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:২৯ পিএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৩ ২২:২৮ পিএম
জয়পুরহাট জেলা কারাগার। ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাট জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার প্রায় ছয়গুণ বেশি বন্দি হাজতবাস করছেন। পাঁচটি পুরুষ, দুটি ওয়ার্ড ও ১০টি সেল মিলে ১২৭ বন্দির ধারণক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে আছেন ৭৪৩ জন। পাশাপাশি কারাগারে শৌচাগার সংকটেও বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বন্দিদের। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৩০ থেকে ১৫০ বন্দির বিপরীতে রয়েছে একটি পায়খানা ও একটি প্রস্রাবখানা। এ ছাড়া রাতে বন্দিদের থাকতে হয় খুব কষ্টে। এদিকে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রতিদিন গ্রেপ্তার হচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। অন্য মামলায় আরও আসামি আদালত হয়ে কারাগারে প্রবেশ করছেন।
সদ্য জামিনে মুক্ত হওয়া অনেক হাজতি বলেছেন জেলখানায় বন্দিদের মানবেতর জীবনের কথা। আব্দুল মতিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘দিনে ওয়ার্ড থেকে বাইরে বের হলে তাও চলাফেরা করা যায়। কিন্তু রাতে অনেক কষ্টে থাকতে হয়। কোনো দিন এক কাত হয়ে, আবার কোনো দিন চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে হয়। আমার ওয়ার্ডে ১৫০ জন ছিল। রাতে তো কষ্ট হয়ই, আবার সকালে বাথরুমে গেলে লাইন ধরতে হয়। আমাদের এতজনের জন্য মাত্র একটি পায়খানা ও একটি প্রস্রাবখানা। ভেতরে খাবার কেনার জন্য একটি ক্যান্টিন আছে। সেখানে দাম বেশি। আবার বাইরে থেকে খাবার পাঠালে কাছে পৌঁছাতে সময় লাগে। সপ্তাহে বাড়িতে একবার কথা বলা যায়। ঘুরেফিরে ওই একই জায়গা। এককথায় কারাগারের ভেতরে খুবই কষ্ট।’ জেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে এই কারাগারে ৭০৫ পুরুষ ও ৩৮ নারী বন্দি আছেন। তাদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত ২৫৫ জন আর ৪৮৮ জন বিচারাধীন।
জেল সুপার রীতেশ চাকমা বলেন, গত কয়েক দিন কারাগারে আসামি বেশি এসেছে। তবে জামিনে কারাগার থেকে সে তুলনায় অনেক কমসংখ্যক বন্দি বের হচ্ছে। বর্তমানে কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বন্দি রয়েছে। ভেতরে তাদের জীবনযাপনে সমস্যা হলেও এভাবেই থাকতে হচ্ছে। সমস্যাটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
শৌচাগার বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে তাদের তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তা ছাড়া ১২৭ বন্দির ধারণক্ষমতা থাকলেও খাবারে তাদের কোনো সমস্যা হয় না। বন্দি যতই থাকুক, তার ওপর ভিত্তি করে খাবার কেনা হয়। এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক সালেহীন তানভীর গাজী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এক মাস আগে কারাগার কর্তৃপক্ষের চিঠি ঊর্ধ্বতনের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অবগত করা হয়েছে।