লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:৫১ পিএম
আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৩ ১৮:৩৮ পিএম
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের শূন্যপদে উপনির্বাচনে ব্যালট বইয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারেন ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেন। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের শূন্যপদে উপনির্বাচনে ব্যালট বইয়ে নৌকা মার্কায় অনবরত সিল মারার ঘটনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দ্রগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক বেলায়েত হোসেন তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আদালতের জিআরও মো. শরীফ উল্যাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ আজাদকে আদালতে আনে। বিচারকের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তবে এসব বিষয়ে জেলা পুলিশ ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি। বক্তব্য জানতে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তহিদুল ইসলামকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।
এর আগে শুক্রবার (১০ নভেম্বর) ভোরে চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম মাসুদুর রহমান মাসুদের বাড়ি থেকে ‘পুলিশ’ পরিচয়ে আজাদকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠে। শুরু থেকেই আজাদ পুলিশের কাছে ছিল বলে তার বড় ভাই যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন দাবি করে আসছিল।
আজাদ চন্দ্রগঞ্জ থানা ও দিঘলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তিনি সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ খাগুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। আজাদ চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগ নেতা মাসুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম মাসুদুর রহমান মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুক্রবার ভোরে আজাদ আমাদের বাড়িতে আসে। পরে তাকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন আমি বাড়িতে ছিলাম না।’
গত ৫ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচন হয়। এরমধ্যে দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ খাগুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজাদ ব্যালট বইয়ে নৌকায় মার্কায় অনবরত সিল মারেন। এ ঘটনার ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায় আজাদ একাই ব্যালট বইয়ে নৌকা মার্কায় ৪৩টি সিল মারে। এনিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় হয়। ওই ভোটের ফল প্রকাশের গেজেট স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পৃথকভাবে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ইসিসহ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।