× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাভার ও আশুলিয়ায় অধিকাংশ কারখানায় অনির্দিষ্টকালের ছুটি ঘোষণা

সাভার ও আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:২০ পিএম

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৩ ১৪:১৬ পিএম

কারখানার বাইরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে ও শ্রমিকরা বন্ধের নোটিস দেখে ফিরে যাচ্ছে। প্রবা ফটো

কারখানার বাইরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে ও শ্রমিকরা বন্ধের নোটিস দেখে ফিরে যাচ্ছে। প্রবা ফটো

প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের মুখে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মুজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত শতাধিক পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। 

শনিবার (১১ নভেম্বর) টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের ইউনিক, শিমুলতলা, জামগড়া, ছয়তলা, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও বিশমাইল-জিরাবো সড়কের কাঠগড়া আমতলা, বড় রাঙ্গামাটিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানায় টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে কারখানা বন্ধের নোটিস।

জামগড়া এলাকার দি রোজ ড্রেসেস লিমিটেড, পাইয়োনওয়ার ক্যাজুয়াল ওয়্যার লিমিটেড, বেরণ এলাকার এনভয় গ্রুপের মানটা এ্যাপারেলস লিমিটেড, স্টারলিংক অ্যাপারেলস লিমিটেড, অনন্ত গার্মেন্টস লিমিটেড, শারমিন গ্রুপের এ.এম ডিজাইন, হলিউড গার্মেন্টস লিমিটেড, নরসিংহপুর এলাকার হামিম গ্রুপের দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার লিমিটেড, বড় রাঙ্গামাটিয়া এলাকার টেক্সটাউন টিমিটেড ও অরনেট নিট গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কাঠগড়া এলাকার এআর জিন্স, আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেড, ডুকাটি অ্যাপারেলস লিমিটেড, ক্রোসওয়্যার লিমিটেড, সেইন অ্যাপারেলস লিমিটেডসহ প্রায় শতাধিক পোশাক কারখানার গেটে কারখানা বন্ধের নোটিস দেখা গেছে।

এ সময় অনেক কারখানার ফটকের সামনে কিছু শ্রমিক কাজে যোগ দিতে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোর সামনে ও এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

নোটিসে বলা হয়েছে, ৯ নভেম্বর সকাল ১০টায় এবং বিগত কয়েকদিন ধরে বেলা ১১টা ও বেলা ৩টার সময় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বহিরাগত পোশাক শ্রমিকদের বেআইনিভাবে কারখানার ভেতর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কারখানা ভাঙচুর ও কারখানার কাজ বন্ধ রাখাসহ কর্মস্থলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করায় কারখানার উৎপাদন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এমতাবস্থায় কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ১০ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করল।

কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হওয়ার বিষয়টি শ্রমিকদের মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়েও জানিয়ে দিচ্ছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার এক শ্রমিক বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনের মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে। আমাদের মোবাইলে এ সংক্রান্ত মেসেজ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া কারখানার গেটে নোটিস টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের অনেকেই কারখানায় সকালে গিয়ে নোটিস দেখে ফিরে এসেছি। কারখানা কর্তৃপক্ষ যে আইন দেখিয়ে ছুটি ঘোষণা করেছে সেই আইনে কারখানা যতদিন বন্ধ থাকবে ততদিনের বেতন পাবে না শ্রমিকরা।’

বেরণ এলাকার এ.এম ডিজাইন কারখানার শ্রমিক আয়েশা আক্তার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার কারখানায় এসে কাজে যোগ দেওয়ার পরপরই ছুটি দেওয়া হয়। এরপর শ্রমিকরা সবাই বাসায় ফিরে যায়। শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ গেছে। আজ সকালে কারখানার সামনে এসে অনির্দিষ্টকালের ছুটির নোটিস দেখতে পাই। মালিকপক্ষ কী কারণে বন্ধ দিল আমাদের কিছুই জানানো হয় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মজুরি বাড়ানোর আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের শ্রমিকরা গুলি খেয়ে মারা গেল। তার কোনো বিচার নাই। এখন আবার কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হলো। তাহলে আমরা শ্রমিকরা কোথায় যাব?’

আশুলিয়ার হলিউড গার্মেন্টসের শ্রমিক মো. শামীম বলেন, ‘আমরা চাই গার্মেন্টস খুলে দিক। টাকা-পয়সার সিদ্ধান্ত না নিয়ে হুট করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দিচ্ছে এতে তো আমাদের সবারই ক্ষতি হচ্ছে। ভাঙচুরের ও দরকার নাই, গন্ডগোলেরও দরকার নাই। সরকার সুষ্ঠু একটা সমাধান করে দিক, মীমাংসা করে দিক। হেলপারদের বেতনের যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা তো আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু আয়রনম্যান, অপারেটর, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার এদের কারও কথা বলে নাই। এ জন্যই তো সমস্যা।’

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের কাছে আসা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক আন্দোলনের মুখে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ১০০ প্লাস কারখানা আজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সংখ্যা হয়তো আরও ৫ থেকে ৭টা বাড়তে পারে। আজকে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলেও পারেনি। তাই এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। অন্যান্য দিনের মতো আজও আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা