লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:২৬ পিএম
আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:৫৯ পিএম
ফাইল ফটো
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে উপনির্বাচনে ভোট চলাকালীন একাই ৪২টি ব্যালটে সিল মারার ঘটনায় ভাইরাল হওয়া সাবেক সেই ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেনকে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) আজাদের বড় ভাই আলমগীর হোসেন এই অভিযোগ করেছেন।
তার দাবি, আজ শুক্রবার ভোরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম মাসুদুর রহমান মাসুদের চন্দ্রগঞ্জের বাসা থেকে আজাদ হোসেনকে তুলে নেওয়া হয়েছে। মাসুদ নিজেও প্রতিদিনের বাংলাদেশের কাছে একই দাবি করেছেন। তবে আজাদকে তুলে নেওয়ার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না বলে জানিয়েছেন মাসুদুর।
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, ‘আজাদকে আটক করা হয়েছে কি না- তা আমার জানা নেই। এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।’
খোঁজ নিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু বকর ছিদ্দিক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহেল রানাকে ফোন দেওয়া হলেও তারা ফোন ধরেননি।
আজাদ হোসেন সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ খাগুড়িয়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে। চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন তিনি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পদ থেকে সম্প্রতি বহিষ্কার হয়েছিলেন। আজাদ ছাত্রলীগ নেতা মাসুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নৌকায় অনবরত সিল মারার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এলাকায় তার দেখা মিলছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, মাসুদের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন আজাদ।
আজাদের বড় ভাই আলমগীর হোসেন নিজেকে রাজধানীর পল্টন থানাধীন বায়তুল মোকাররম ইউনিট যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মোবাইল রেখে আজাদ আত্মগোপনে চলে যায়। সে কোথায় ছিল, কীভাবে ছিল কিছুই জানা ছিল না। খবর পেয়েছি আজ (শুক্রবার) ভোর ৬টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল টিম তাকে তুলে নিয়ে গেছে। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, আজাদ এখন পুলিশ সুপার কার্যালয়ে রয়েছে।’
চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, ‘আমি বাড়ি ছিলাম না। বাড়ি থেকে জানানো হয়েছে, আজাদ আজ ভোরে আমাদের বাড়িতে আসে। পরে তাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।’
মাসুদের বোন ও চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য শাহানারা বেগম রুমি বলেন, ‘ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আজাদকে তুলে নিয়ে গেছে। আমাদের মোবাইল নিয়ে গেছে। তারা আমাদের মারধর করেছে।’
গত ৫ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে ভোট হয়। নির্বাচনে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৩ ভোটের বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন নৌকার প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু। কিন্তু এদিন নির্বাচন চলাকালেই ক্ষমতাসীনদের বল প্রয়োগ, জাল ভোট, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ রাকিব হোসেন ও জাকের পার্টির শামছুল করিম খোকন ভোট বর্জন করেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন নৌকার প্রার্থী।
এরই মধ্যে পরদিন এই আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালট বইয়ের নৌকা প্রতীকে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেনের একাধিক সিল মারার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আজাদকে ৫৭ সেকেন্ডে অন্তত ৪২টি সিল মারতে দেখা যায়। ভিডিওটি দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ খাগুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ঘটনা বলে জানা যায়।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পৃথকভাবে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।