আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:৩৫ পিএম
আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৪:০১ পিএম
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত রয়েছে। প্রবা ফটো
ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা প্রত্যাখ্যান করে বেতন বৃদ্ধির দাবি পুনর্বিবেচনার জন্য কারখানা থেকে বের হয়ে গেছেন পোশাক শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) সকালে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের জামগড়া, ছয়তলা ও নরসিংহপুর এবং আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার অন্তত ৩০টি কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাভার ও আশুলিয়া কমিটির সভাপতি খায়রুল মামুন মিন্টু। তিনি বলেন, ‘আজ জামগড়া থেকে জিরাবো এলাকা পর্যন্ত প্রায় সব কারখানা বন্ধ। এর সংখ্যা হবে অর্ধশতাধিক।’
সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের ইউনিক, শিমুলতলা, জামগড়া, ছয়তলা, নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্বাভাবিক নিয়মেই শ্রমিকরা সকালে কারখানায় প্রবেশ করে। সাড়ে ৮টার দিকে দুই থেকে তিনটি কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বের হয়। পরে একের পর এক কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সড়কে পর্যাপ্ত র্যাব, ঢাকা জেলা পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো শ্রমিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেনি। পরিস্থিতি দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।
স্টারলিং অ্যাপারেলসের এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘আমরা সাড়ে ১২ হাজার টাকা মজুরি মানি না। তাই কারখানায় ঢুকলেও কাজ করিনি। বেতন বৃদ্ধি করা না হলে আমরা কাজ করব না। শ্রমিকরা কাজ না করায় এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় স্টারলিং অ্যাপারেলস কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে।’
এএম ডিজাইন লিমিটেড কারখানার অপারেটর লিটন বলেন, ‘আমরা গার্মেন্টস শ্রমিক। আমরা দিন-রাত কাজ করি অথচ ঠিকমতো খাইতে পারি না। আমরা সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারি না। প্রডাকশন টার্গেট পূরণ করতে যে পুষ্টি দরকার তার চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারি না। নিত্যপণ্যের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। যে বেতন বাড়ানো হয়েছে আমরা সেই বেতন প্রত্যাখ্যান করছি। বেতন বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
এনভয় কারখানার শ্রমিক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করি। আমাদের বেতন বাড়ানোর পরে বেতন হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। দ্রব্য মূলের ঊর্ধ্বগতির কাছে আমরা হেরে যাচ্ছি। সরকার যেই আসুক আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা পেটের দায়ে এতো কষ্ট করি সাড়ে ১২ হাজার টাকায় আমাদের সংসার চলে না। রুম ভাড়া সাড়ে তিন হাজার, এক কেজি পেয়াজের দাম ১২০ টাকা, আমরা কী খাব।’
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সকালে ৫-৬টি কারখানার শ্রমিকরা বের হয়েছে। এরপর সড়কের পাশের কারখানাগুলো ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। আমাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’