× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কেঁচোসারে ভাগ্যবদল খাইরুলের

চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৩ ১১:২১ এএম

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:৪০ পিএম

বাড়ির আঙিনায় নিজের প্ল্যান্টে কেঁচোসার উৎপাদনের কাজে খাইরুল ইসলাম। প্রবা ফটো

বাড়ির আঙিনায় নিজের প্ল্যান্টে কেঁচোসার উৎপাদনের কাজে খাইরুল ইসলাম। প্রবা ফটো

মূলধন কম। স্বপ্ন অনেক বড়। তবু কম মূলধন নিয়েই ভোলার খাইরুল ইসলাম বছর চারেক আগে নিজের বাড়িতে গড়ে তোলেন ছোট্ট এক গরুর খামার। কিন্তু স্বপ্ন পিছু ছাড়ে না। সন্তানদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের নিত্যদিনের খরচও বেড়ে চলে। কপালে চিন্তার ভাঁজ, কীভাবে পরিবারের আয় বৃদ্ধি করা যায়। এমন সময় মিলল বেশ কার্যকরী এক উপায়। বেসরকারি পরিবার উন্নয়ন সংস্থার (এফডিএ) সহযোগিতায় শুরু করলেন পরিবেশবান্ধব কেঁচোসার উৎপাদন। ভাগ্য বদলের দিন গণনা শুরু সেই থেকে।

জেলার চরফ্যাশন উপজেলার আবুবকরপুর ইউনিয়নের রোদ্রের হাট এলাকায় বসবাস করেন খায়রুল। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তার পরিবার। খাইরুল বলেন, নিজস্ব খামারের গোবর ও কেঁচো দিয়ে কেঁচোসার বা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। এ পদ্ধতিতে কেঁচোসার উৎপাদনের খরচ অনেকটাই কম। প্রথম দিকে উৎপাদন কম হলেও এখন প্রায় ৫০ মণ ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন হয় প্রতিমাসে। প্রতি মণের বাজার মূল্য ৭০০ টাকা। এতে খাইরুল ইসলামের মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা আয় হয় বর্তমানে।

মাসে তিনি ১০০ মণ সার উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছেন। কেঁচোসার রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় খায়রুলের এলাকার কৃষকদের মধ্যে এর চাহিদাও ব্যাপক। কেঁচোসার উৎপাদনের শুরুর কথা বলতে গিয়ে উদ্যোক্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিকে গরুর খামারের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয়। পরে বেসরকারি পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) কেঁচোসার উৎপাদনের জন্য পরামর্শ ও সহায়তার আগ্রহ দেখায়। এ ছাড়া তারা আমাকে পিরোজপুরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেয় আর আর্থিকভাবেও সহায়তা করে।

তিনি বলেন, আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের প্ল্যান্ট তৈরি করাসহ ২০ কেজি কেঁচো ক্রয় করি। বর্তমানে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বাচ্চাসহ ১৫০ কেজি। আশা করছি শিগগিরই কেঁচোও বিক্রি করতে পারব। এতে আমি দুই দিক থেকে লাভবান হব। বাড়িতে কেঁচোসার উৎপাদন করতে স্ত্রী-সন্তানরা সহযোগিতা করে। সে জন্য বাইরের শ্রমিকের জন্য আলাদা খরচ করতে হয় না।

কেঁচোসার উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে খাইরুল বলেন, প্রথমে নতুন গোবর সংগ্রহ করে প্রায় একমাস ঢেকে রেখে পচিয়ে প্রক্রিয়া করা লাগে। গোবরের গন্ধ দূর করার জন্য নাড়াচাড়া করে প্ল্যান্টে ফেলি। পরে এগুলোতে কেঁচো ছেড়ে দিলে কেঁচো গোবর খেয়ে এগুলোকে সারে পরিণত করে। প্ল্যান্টের ৩০টি হাউসে এ কেঁচোসার উৎপাদন হয়। প্ল্যান্ট থেকে চার-পাঁচ দিন পরপর ১০-১৫ কেজি সার পাওয়া যায়।

খাইরুলের স্ত্রী রিনা বেগম জানান, বাড়িতে সার উৎপাদিত হওয়ায় ও কাজ সহজ হওয়ায় সংসারের কাজের পাশাপাশি স্বামীকে সাহায্য করতে পারি। কেঁচোসার উৎপাদন করে আমার পরিবার এখন স্বাবলম্বী। প্রাকৃতিকভাবে এ সার উৎপাদন হওয়ায় এতে কোনো রাসায়নিক প্রভাব পড়ে না। এর প্রধান উপাদান হিসেবে গোবর প্রয়োজন হয়। প্রথম দিকে এলাকার লোকজন ও কৃষকরা কিছুটা অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও জমিতে এর কার্যকারিতা দেখে এখন কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ ও চাহিদা বাড়ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা