প্রতিদিনের বাংলাদেশের সংবাদ দেখে লিগ্যাল নোটিস
মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৩ ২০:৫০ পিএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৩ ২১:০৮ পিএম
শ্রীমঙ্গলে দি বাডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারির শিশু শিক্ষার্থী নাঈম। প্রবা ফটো
প্রায় এক বছর ধরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত দি বাডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারির শিশু শিক্ষার্থী নাঈম উর রহমান স্কুলগেটে দাঁড়িয়ে থাকে। স্কুলে তার প্রবেশাধিকার নেই। সে স্কুলের উপযোগী নয়, সে ঠিকমতো কথা বলতে ও পেনসিল ধরতে পারে না, দুষ্টুমি করে—এমন অজুহাতে তাকে অবাঞ্ছিত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনা নিয়ে ১৮ অক্টোবর প্রতিদিনের বাংলাদেশের ৭নং পৃষ্ঠায় ‘কেন স্কুলের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে নাঈম’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারেনি শিশু নাঈম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও এখনও শুরু হয়নি প্রতিবেদন তৈরির কাজ।
এদিকে প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে শিশু শিক্ষার্থী নাঈমকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নিতে ও তার ওপর চলমান মানসিক নিপীড়ন বন্ধ করতে শিক্ষা সচিব, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ১১ জন আইনজীবী। বুধবার (৮ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ১১ আইনজীবীর পক্ষে নোটিস পাঠান অ্যাডভোকেট মো. আসাদ উদ্দিন।
প্রেরিত ওই নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১ বছরের বেশি সময় ধরে শিশু নাঈম প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্কুলের পোশাক পরে ব্যাগ নিয়ে তার যমজ ভাইয়ের সঙ্গে স্কুলের গেট পর্যন্ত আসে। কিন্তু গেটে তাকে আটকে দেওয়া হয়। তার সহপাঠী ও অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যখন শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে বা টিফিনের সময় মাঠে খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছে, তখন গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে বিষণ্ন মনে তা দেখছে। স্কুল ছুটি পর্যন্ত সে দাঁড়িয়ে থাকে স্কুলের প্রধান গেটে। ছুটি হলে ভাইয়ের সঙ্গে বাসায় ফিরে যায়। এক বছর ধরে চলছে এমন ঘটনা। নাঈমের জন্য ফটকটি বন্ধ রয়েছে ১৩ মাস ধরে। বিধি মোতাবেক স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও বেতন পরিশোধ করলেও সে স্কুলের উপযোগী নয়, কথা বলতে পারে না, পেনসিল ধরতে পারে না ও দুষ্টুমি করে—এমন অজুহাতে তাকে অনেকটা অবাঞ্ছিত করেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কলেজ সড়কে অবস্থিত দ্য বাডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মানবাধিকার ও শিশু অধিকারের প্রতি অবমাননা ও অবজ্ঞা প্রদর্শন। এর মাধ্যমে আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও শিশু অধিকারের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হচ্ছে। তাই দেশের সচেতন নাগরিক ও উচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে এ আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।
নোটিস পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে শিশু নাঈমের ওপর চলমান অমানবিক ও মানসিক নিপীড়ন বন্ধ করতে এবং তাকে ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় নোটিসদাতারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিসে স্বাক্ষরকারী আইনজীবীরা হলেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মো. জোবায়দুর রহমান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আল রেজা মো. আমির, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কেএম মামুনুর রশিদ, অ্যাডভোকেট মো. আশরাফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শাহীনুর রহমান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হারুন, অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া ও অ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন সুজা।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, ’শিক্ষার্থী নাঈমের পিতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দিয়েছি। ইতোমধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীলিপ কুমার বর্ধন বুধবার মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আব্দুর রহমান নামের বাডস্ স্কুলের একজন অভিভাবকের লিখিত আবেদন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ পাওয়ার পর দাপ্তরিক ঝামেলা ও দুর্গাপূজায় স্কুল বন্ধ থাকায় তদন্ত করতে কিছুটা সময় ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষকে তদন্তের জন্য লিখিত চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। ১৫ নভেম্বর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হবে। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করা হবে। শিশুটি যেহেতু ইংরেজি মিডিয়ামের শিক্ষার্থী, তাই আগামী বছরের জুলাই মাসে তার সেশন শুরু হবে। ফলে সময় কিছুটা ব্যয় হলেও সমস্যা নেই।’
এ ব্যাপারে দি বাডস রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ’নাঈম নামের শিশুটির কথা অস্পষ্ট। সে পেনসিল ধরতে পারে না। তার কারণে অন্য শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। আমরা কিছু দিন তাকে অবজারভেশনে রেখেছিলাম। এরই মধ্যে তার বাবা লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন এবং যথানিয়মে জবাব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে টিসি নেওয়ার জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি আসেননি।‘