আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:৪১ পিএম
প্রতীকী ছবি
মাদক পাচারের অভিযোগ উঠায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা আন্তঃনগর ট্রেনে করে আখাউড়া থেকে ময়মনসিংহে গাঁজা পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ।
তারা হলেন- ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার কনস্টেবল সোহেল রানা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক তারেক আলী। সোহেল রানার কাছ থেকে তিন কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। রেলওয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশকে জানান, তারেক আলীর কাছ থেকে তিনি গাঁজা বুঝে নেন।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ অভিমুখী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে মাদক পাচারের এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানাকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার বলেন, তারেক আলীকে বরখাস্ত করার কথা জানানো হয়েছে। তবে কি কারণে বরখাস্ত হয়েছে সেটি আমি জানি না। গাঁজা পাচারের সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়টিও আমার জানা নেই। একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থানা পুলিশের একাধিক সদস্য মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এর আগেও এক পুলিশ সদস্য মাদকসহ ধরা পড়েন। পুলিশ সদস্যরা টিকিট কালোবাজারি, ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণে যাত্রীদের সহায়তা করার অভিযোগ আছে। সম্প্রতি স্টেশনটিতে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেড়ে গেছে। সে অনুযায়ী পুলিশের তৎপরতা নেই।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে থানায় দায়ের হওয়া মামলা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ৬ নভেম্বর বেলা সাড়ে ৩টায় বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে ট্রেনে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন ভৈরব রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক নাজিউর রহমানসহ অন্যরা। ট্রেনটি বাজিতপুর স্টেশন অতিক্রমের সময় সোহেল রানার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে তিন কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে ভৈরব থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা জানান, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে তিনি গাঁজার ব্যাগটি নেন। আখাউড়া রেলওয়ে থানায় কর্মরত তারেক আলী তাকে এ ব্যাগটি দেন। এ ঘটনায় এসআই নাজিউর রহমান বাদী হয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ওই দিনই দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ভৈরব থানার এসআই মো. আব্দুস সাত্তার বুধবার (৮ নভেম্বর) সকালে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার রিমান্ড আবেদন করা হবে। সোহেল রানার কথামতো তারেক আলী এ ঘটনায় জড়িত কিনা সে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’