ভোলা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২২ ১৬:০৮ পিএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২ ১৬:৩৫ পিএম
ভোলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। রবিবার দুপুরে তোলা ছবি। প্রবা
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ভোলার উপকূলীয় এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোখাও ভারী বর্ষণেরও খবর পাওয়া গেছে।
রবিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়া থাকলেও জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। নদীর পানি এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া দপ্তর।
ভোলা আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ১ মিলিমিটারের কিছুটা কম বৃষ্টি হয়েছে।’
ঝড়ের সময় জান-মালের নিরাপত্তায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান।
মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভোলা মৎস্য দপ্তর।
সব নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদে অবস্থান করতে বলা হয়েছে আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে।

ঘূর্নিঝড় সিত্রাং মোকাবেলায় জেলায় ৬৯১টি আশ্রয় কেন্ত্র প্রস্তুত রয়েছে। সেগুলোর ধারণক্ষমতা ৫ লাখ ২৩ জন।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, বাংলাদেশের তিনকোনা দ্বীপ ও সন্দ্বীপে মঙ্গলবার প্রথম আঘাত হানতে পারে সিত্রাং। নিম্নচাপটি শনিবার (২২ অক্টোবর) বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভারতের আন্দামান নিকোবর দ্বীপ থেকে ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থান করছিল এবং ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে ঘূর্ণন বৃত্ত তৈরি করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত, বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনার উপকূলীয় এলাকায়। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১১০ কিলোমিটার।
তবে কোনো কোনো এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্তও উঠতে পারে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ২৫০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রামের উপকূল থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত ফেনী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বৃষ্টির পরিমাণ হতে পারে ১৫০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত। ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোয় সমপরিমাণ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তবে তুলনামূলক কম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে মংমনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে।
সিত্রাংয়ের সম্ভাব্য আঘাতস্থল এবং গতিবেগ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত সুষ্পষ্ট কোনো পূর্বাভাস দেয়নি বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে ২৫ তারিখে ঝড়টি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে—এমন পূর্বাভাস দিয়েছে সরকারি দপ্তরটি। সতর্কতার অংশ হিসেবে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে তারা। এছাড়া মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গতিবেগ নিয়ে এখনো কোনো পূর্বাভাস না দিলেও সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়েছে। সিত্রাং ২৫ তারিখে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। বাতাসের গতিবেগ এবং জলোচ্ছ্বাস নিয়ে পূর্বাভাস রবি বা সোমবার দেওয়া হবে।’