× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শুনতে কী পাও

নদীর কান্না শোনে না কেউ

রেজাউল করিম

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৩ ১১:৩৪ এএম

দূষণ ও দখলে লৌহজং নদীটি হারিয়ে ফেলেছে তার রূপ

দূষণ ও দখলে লৌহজং নদীটি হারিয়ে ফেলেছে তার রূপ

টাঙ্গাইল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী লৌহজং। একসময়ের খরস্রোতা নদীটি সময়ের বিবর্তনে দখল দূষণের কবলে মৃতপ্রায়। ভরা মৌসুমেও নদীটি ঢেকে থাকে কচুরিপানায়। নাব্য হারিয়ে পরিণত হয়েছে মরা খালে। নদীর নীরব কান্না যেন শোনো না কেউ। 

সাত বছর আগে নদীটি দখলমুক্ত কার্যক্রম শুরু হলেও তিন বছরের মাথায় বন্ধ হয়ে যায় কার্যক্রম। এরই ফাঁকে অবৈধ দখল আর দূষণে ফিরে গিয়েছে আগের রূপে। প্রতিনিয়ত কলকারখানার বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। নদীর দুই পাড়ের পরিবেশ চরম বিপর্যয়ের মুখে। নদীটি দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবি স্থানীদের।

লৌহজং নদীর দৈর্ঘ্য সদর উপজেলার যুগনী থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত ৭৫ কিলোমিটার। শহরের নিরালাড়া মোড় এলাকায় একসময় ছিল নৌবন্দর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ ও বড় বড় নৌকা বাণিজ্যে আসত এ বন্দরে। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল এখানে। বর্তমানে এসব অতীত। দীর্ঘদিন ড্রেজিং না করায় এর নাব্য হারিয়েছে। এই সুযোগে দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ কৌশলে প্রথমে ময়লা-আবর্জনা ফেলে দখল করছে। পরে নির্মাণ করছে স্থায়ী ভবন, দেয়াল ও স্থাপনা। এ ছাড়াও মিল কারখানা, শহরের ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলে দূষিত করা হচ্ছে পানি। 

নদীটি দূষণ ও দখলমুক্ত করার জন্য ২০১৬ সালে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। ওই বছরের ২৯ নভেম্বর নদীটি দূষণ ও দখলমুক্ত করার কাজ উদ্বোধন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন। শহরের পুলিশ লাইনস হাজরাঘাট এলাকা থেকে বেড়াডোমা পর্যন্ত চার কিলোমিটার দূষণ ও দখলমুক্ত করা হয়। চার বছর ধরে কোনো কার্যক্রম না থাকায় নদীর পানি দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কুচুরিপানায় পরিপূর্ণ  থাকায় নদী হারিয়ে ফেলেছে তার স্বাভাবিক গতি।  

কাগমারা এলাকার বাসিন্দা বাবু মিয়া বলেন, ১৫ বছর আগেও যে নদীতে গোসল ও গৃহস্থালি কাজ করতাম। সেই নদীর পানি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী। নদীতে মাছ তো দূরের কথা, পানিতে বসবাসকারী কোনো পোকাও থাকে না। 

করটিয়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য ফেলে নদীটি বিভিন্নভাবে দূষণ করা হচ্ছে। নদী থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নদীটি মানুষের উপকারে আসার পরিবর্তে অপকারই হচ্ছে। 

নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক রতন সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পর লৌহজং নদীটি উদ্ধারের জন্য মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করি। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালে নদীটি উদ্ধারের জন্য দখলমুক্ত করা হলেও ২০১৯ সালের পর থেকে আর কোনো কার্যক্রম না থাকায় নদীটি আবার দখল হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুনেছিলাম নদীটি দখল ও দূষণমুক্ত করার ২৪০ কোটি টাকা  বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু এর কোনো কার্যক্রম নেই।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, লৌহজং নদীর উদ্ধার কার্যক্রম থমকে আছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ পরিবেশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্তমানে আইন লঙ্ঘন করে নদী দখর করা হচ্ছে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন ড্রেনের লাইন নদীতে দেওয়া আছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও নদীর ময়লা-আবর্জনাসহ বাসায় টয়লেটের লাইন নদীতে দিয়ে দূষণ করছেন। নদী দখল ও দূষণে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মির্জাপুর অংশে ২২ কিলোমিটার এলাকায় নদী পুনঃখনন ও নদীর তীর সংরক্ষণের একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে শুকনো মৌসুমে কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া শহরের অংশে নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো আছে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা