প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ২২:০০ পিএম
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ২২:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পুলিশের নির্যাতনে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বুরুমদী গ্রামের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের মৃত্যুর অভিযোগে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ ক্ষোভ জানায়।
সোমবার মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য ওই ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগের বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এমএসএফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যেকোনো ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা পুলিশের আইনি দায়িত্ব, ফলে পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর ক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহি করা রাষ্ট্রের মানবাধিকার ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তাই এমএসএফ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জাবি জানাচ্ছে।
নুরুল ইসলামের স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার সোনারগাঁয়ে তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই ইলিয়াস আহমেদ ও একজন পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে ঘরে প্রবেশ করে নুরুল ইসলামকে হাতকড়া পরিয়ে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর নুরুল ইসলামকে কিল-ঘুসি, লাথি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে তাকে ছেড়ে দিতে এক লাখ টাকা দাবি করেন। না হলে চলমান রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়। পুলিশ সদস্যের দাবিমতো ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি স্বজনদের। পরে পুলিশ সদস্যরা চলে গেলে আহত অবস্থায় নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে স্থানীয় আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নুরুল ইসলামের মেয়ে শিলা ও মিথিলা আক্তার জানান, তিন বছর আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হওয়ার কারণে তাদের বাবা বাড়িতে থাকতেন। পুলিশ তার বাবাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় তারা বিচার দাবি করেন। সে সময় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেছিলেন, পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা সত্য নয়। মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক না পেয়ে পুলিশ চলে আসার পর ওই ব্যক্তি স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) করে মারা যান।