চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:৫৩ পিএম
চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপস্থিত অতিথিরা। প্রবা ফটো
জনগণের প্রদানকৃত অর্থই সরকারের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেছেন, যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে দেশীয় অর্থায়নে তৈরি গৌরবময় পদ্মা সেতু। এছাড়াও সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন করা হয়েছে যার মোট প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্ধেক অর্থায়ন হয়েছে জনগণ বা সরকারের টাকায়। সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান খাত হচ্ছে আয়কর। কিন্তু আয়কর প্রদান বিষয়ে অনেকেই সচেতন নয়। তাই সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষকে কর প্রদানে উৎসাহিত করতে হবে।
মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত এক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যক্তিগত আয়কর প্রদান নিয়ে যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এবং এসএমএসি এডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেড।
কর্মশালায় ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সফটওয়্যার ট্যাক্সডুর মাধ্যমে ব্যক্তিগত আয়কর, হিসাব নিকাশ ও রিটার্ন জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে ঘরে বসেও যেকোনো করদাতা আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সেবা পাবেন।
ওমর হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে ট্যাক্স টু জিডিপির আনুপাতিক হার অনেক কম। এছাড়া একই শ্রেণির করদাতার উপর নির্ভর না করে ট্যাক্স নেট বৃদ্ধি করতে হবে। দেশের মধ্যম আয়ের মানুষকে ট্যাক্স দিতে উৎসাহিত করতে হলে ট্যাক্সের হার সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও সাধারণের নিকট কর প্রদানের ভীতি দূরকরণের লক্ষ্যে সকল ধরণের হয়রানি রোধ করতে হবে এবং রিটার্ন প্রদান সহজ করা গেলে ট্যাক্স নেট বৃদ্ধি পাবে।
কর্মশালায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৩-এর কর কমিশনার ড. ইখতিয়ারুদ্দিন মো. মামুন, সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার মাজহারুল কবির, এম এম রহমান এন্ড কোং’র সিনিয়র পার্টনার সিদ্ধার্থ বড়ুয়া, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউটেন্টস বাংলাদেশ’র সহ-সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম।
অতিথি বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনেরর সভাপতি মো. নুর হোসেন।
চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৩-এর কর কমিশনার ড. ইখতিয়ারুদ্দিন মো. মামুন বলেন, সরকারের নতুন আয়কর আইনে ৪০টির অধিক সেবা প্রাপ্তির জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। আবার আইনে সরকারের সকল গণকর্মচারীদেরকে রিটার্ন দাখিলও বাধ্যতামূলক করেছে। নতুন আইনে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে কর অব্যাহতি ও কর রেয়াত সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবেন করদাতারা। তাই কর বিভাগে অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতা ও কর কর্তৃপক্ষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক স্থাপনে কাজ করা হচ্ছে।