চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:২৫ পিএম
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:৫৪ পিএম
কোরিয়া থেকে আনা হয়েছে ৩০২৫ সিরিজ ইঞ্জিনের সম্পূর্ণ নতুন ট্রেনটি। এটি মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। প্রবা ফটো
দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিন চলাচল করার জন্য একটি ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার স্টেশনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। কোরিয়া থেকে আনা ৩০২৫ সিরিজ ইঞ্জিনের সম্পূর্ণ নতুন ট্রেনটি মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (প্রকৌশলী) সাইফুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, ১৫টি বগির সঙ্গে অতিরিক্ত চারটি বগি নিয়ে বিশেষ নিরাপত্তায় উদ্বোধনী ট্রেনটি রওয়ানা হয়েছে। ট্রেনে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রয়েছে পুলিশের বিশেষ টিম।
এর আগে রবিবার প্রথম আটটি বগি নিয়ে ২৯২৫ সিরিজ ইঞ্জিনে একটি ট্রেন প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম থেকে কালুরঘাট সেতুর ওপর দিয়ে দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, রামু হয়ে কক্সবাজারে যায়। সেটি ছিল জিআইবিআরের পরিদর্শন ট্রেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (প্রকৌশলী) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্বোধনী ট্রেনে থাকবে ১৫টি নতুন বগি। এই ১৫ বগির সঙ্গে আরও চার বগি চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছেড়ে গেছে। ইঞ্জিনসহ সব বগিই কোরিয়া থেকে আনা। সবগুলোই সম্পূর্ণ নতুন। উদ্বোধনী ট্রেনের ১৫ বগিতে কোনো সমস্যা হলে অতিরিক্ত চার বগি সংযোজন করা হবে।’
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১১ নভেম্বর বহুলআকাঙ্ক্ষিত চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নবনির্মিত রেললাইন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের দিন রামু স্টেশন থেকে টিকিট কেটে প্রধানমন্ত্রী ট্রেনে চড়ে কক্সবাজারের আইকনিক স্টেশন পর্যন্ত ভ্রমণ করবেন। এরপর ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পের নথির তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সালে ৬ জুলাই দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মেগা প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মেগা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অর্থায়ন সংক্রান্ত জটিলতায় বেশ কিছুদিন প্রকল্পটি থমকে থাকার পর ২০১৫ সালে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। দোহাজারী-চকরিয়া এবং চকরিয়া-কক্সবাজার (লট-১ ও লট-২) এই দুই লটে চীনা প্রতিষ্ঠান সিআরসি (চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন) ও দেশীয় তমা কনস্ট্রাকসন্স ২ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা এবং চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিইসসিসি ও দেশীয় ম্যাক্স কনস্ট্রাকসন্স ৩ হাজার ৫০২ কোটি টাকায় যথাক্রমে : এক ও দুই নম্বর লটের কাজ পায়। ঠিকাদার নিয়োগের পর ২০১৭ সালে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।