নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা
সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:১১ পিএম
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:১৫ পিএম
কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। পুরো জেলার স্বাস্থ্যসেবার প্রাণকেন্দ্র এই প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসা নিতে এসে অন্ধকারে থাকতে হয় সেবাপ্রার্থীদের। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় হাজারো মানুষের। মোবাইল নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায় এই দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাদের। প্রশাসনের একের পর এক সভা আর মোবাইল কোম্পানি পরিদর্শনসহ একাধিক উদ্যোগেও সমাস্যার সমাধান হয়নি। এতে হাসপাতালের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও মারাত্মতভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বর্হি-বিভাগের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করে। এরপর থেকে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ৫০০ শয্যার হাসপাতালে সকল বিভাগ চালু হয়। কিন্তু শুরু থেকেই হাসপাতাল ও কলেজ ক্যাম্পাসে মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করে না। ফলে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক, শিক্ষার্থী-শিক্ষক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কয়েক হাজার রোগী ও দর্শনার্থী বিপাকে পড়েন।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলী থেকে হার্টের রোগী নিয়ে এসেছেন লোকমান মিয়া। তিনি জানান, এখানে ভর্তি হওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন রোগীর খবর জানতে চায়। কিন্তু মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকায় তিনি ভালো-মন্দ কোনো খবরই দিতে পারছেন না। পরে তিনি তিন দিন পর বাবাকে একা রেখে মেডিকেল থেকে বের হয়ে এক-আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে মোবাইল ফোনে রোগীর খবর জানাতে হয়েছে। তার মতো একাধিক রোগীর স্বজনরা জানান, শুধুমাত্র মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে বাইর হতে কোনো কিছু আনতে, ওষুধ কিনতে কিংবা কোনো সাহায্য-সহযোগিতার জন্য তারা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। এতে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিঘ্ন ঘটছে চিকিৎসাসেবাও।
হাসপাতালে কর্মরত সহকারী পরিচালক ডা. নাছিরউদ্দীন বলেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় অনেক সময় অপারেশনের জন্য সার্জনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। ফলে চিকিৎসাসেবা পেতে রোগীদের বিলম্ব হয়। তাই অতিদ্রুত মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করার জন্য তিনি মোবাইল কোম্পানিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মেডিকলে কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল কলেজে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় অতি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারায় তারা মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হাসপাতালে কর্মরত প্রধান সহকারী মো. আকরাম হোসেন ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ অধিদপ্তরে জরুরি প্রয়োজনেও দ্রুত যোগাযোগ করা যায় না। ফলে অনেক কাজ বিলম্বিত হয়। তিনি দুঃখ করে বলেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় আমার একাধিক নিকট আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুর খবরটিও বিলম্বে জানাতে হয়েছে।
জেলা বিএমএ ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ-সম্পাদক ডা. আবদুল ওয়াহাব বাদল বলেন, নেটওয়ার্ক না থাকায় সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. হেলাল উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় কক্ষে ঢোকার পর সবার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। তখন নিজকে খুব অসহায় মনে হয়। তা ছাড়া রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরাও বিপাকে পড়েন। কারণ কারও সঙ্গে কারোর যোগাযোগ থাকে না। প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতার যুগে আমরা যেন অন্ধকারে থেকে যাই। এই ব্যাপারে জেলা প্রশাসনসহ মোবাইল কোম্পানির সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। একাধিকবার কোম্পানিগুলো পরিদর্শন করে গেলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, নেটওয়ার্কের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তৎপরতা রয়েছে। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় হতে হবে। তবেই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাজটি দ্রুত সমাধান হতে পারে।