শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ১২:০৬ পিএম
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৪:৫৪ পিএম
নিজের খুঁড়ে রাখা পাকা কবরের পাশে আমীর আলী। সোমবার গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ এলাকায়। প্রবা ফটো
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ (পশ্চিম পাড়া) এলাকার শতবর্ষী আমীর আলী বসতঘরের পাশে নিজের কবর খুঁড়ে রেখেছেন। গত সাত বছর যাবৎ ওই কবরের পাশেই দিনের অধিকাংশ সময় কাটান। প্রয়োজন হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও করেন। ওপরে দু’চালা টিনের ছাউনি দিয়েছেন। স্ত্রী আমেনা খাতুনের মৃত্যুর পর তার কবরের পাশে দাফনের জন্য উত্তসূরিদের অনুরোধ করেছেন। তাদের মধ্যে যার আগে মৃত্যু হবে সে যেন পাশপাশি দুজনের কবরের ব্যবস্থা করেন।
মৃত্যুর আগে কবর খুঁড়ে রাখার এমন ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আশপাশের লোক ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর পেয়ে লোকজন কবর দেখতে আসছেন। আমীর আলী জানান, তার বয়স ১১০ বছর। মনে চেয়েছে নিজের কবর নিজে খুঁড়ে রাখার। সেই ভাবনা থেকেই বছর সাতেক আগে নিজেই কবরটি খুঁড়ে ভেতরের দেয়াল (ইটের গাঁথুনি) দিয়ে পাকা করেছেন। তার মৃত্যুর পর তার কবর খোঁড়ার জন্য যেন কাউকে পরিশ্রম করতে না হয় সেই ভাবনা থেকেই তিনি এ কাজটি করেছেন। এতে কারও প্ররোচনা বা পরামর্শ নেননি বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, তাদের একমাত্র পুত্রসন্তান। সেও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার করছে। তার প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই। বয়সের ভারে কাজ করতে পারেন না। ঘরে যা থাকে, বা কেউ কিছু দিয়ে গেলে তা দিয়েই যা রান্না হয়। স্ত্রীকে নিয়ে সেসব খেয়েই তাদের দিন চলে যায়।
আমীর আলীর স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, ‘সে (আমির আলী) বলেছে সে আগে চলে যাবে। খুঁড়ে রাখা কবর দেখে তার মনটা সবসময় নরম থাকবে। কাউকে কোনো পরিশ্রম করতে না দেওয়ার জন্যই নিজের কবর নিজে খনন করেছেন। আর তার কবরস্থ হওয়ার পাশে আমার কবর হবে। আমার কবর অবশ্য খনন করা নেই। এটা আমার এবং তার প্রতিজ্ঞা। চির বিদায়ের পর আমাদের একমাত্র ছেলে এবং পীর ভাই কবরের দেখভাল করবে।’
মাশরাফি সরকার নামে স্থানীয় এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গত ৫-৬ বছর যাবৎ দেখছি তিনি করব খুঁড়ে রেখেছেন। তিনি কবরের পাশেই বসে থাকেন, নামাজ পড়েন। তার স্ত্রীও সব সময় পাশে থাকেন।’
প্রতিবেশী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমীর আলী নিজের কবর নিজেই খুঁড়ে রেখেছেন। এলাকার সবার সঙ্গে আমি নিজেও দেখে এসেছি। তার মৃত্যু এখানে হবে কি না-আল্লাহ ছাড়া কে জানে? তার বিষয় সে যেমন বুঝেছে তেমনই করেছে।’
সাহিদ মিয়া নামে আরেকজন বলেন, ‘কবর খুঁড়ে রাখাই শেষ নয়, কাফনের কাপড়ও কিনে রেখেছেন। এলাকার সবাই বিষয়টা জানে। এমনিতে মানুষ তার খুঁড়ে রাখা কবর দেখতে যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে তার কবর দেখতে।’
আমীর আলীর বন্ধু ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘তার কবর সে নিজেই খনন করেছে কি না, জানি না। তবে কবর দেখেছি। আমরা তার বাড়িতে প্রতি বৃহস্পতিবার যাই। জিকির আসগার করি। আমরা একই তরিকার লোক।’
শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহিদ সরকার বলেন, ‘এলাকার সবাই জানে আমীর আলী নিজেই নিজের খনন করে রেখেছেন। বাড়িতে সে জিকির আসগার, মিলাদ-মাহফিল করেন। বয়স বেশি হওয়ায় তাকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে।’