× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আবার রাজনীতির মাঠে সক্রিয় লতিফ সিদ্দিকী

টাঙ্গাইল প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:১০ পিএম

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৩ ২১:৩৯ পিএম

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। ফাইল ফটো

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকার পর আবার নিজের নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে গণসংযোগ শুরু করছেন। ছোট ভাই বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল সাবেক এই মন্ত্রীর। বিরোধ ভুলে সম্প্রতি তিনি কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন। টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও কালিহাতীসহ বিভিন্ন জায়গায় দলটির সভায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে যোগ দিচ্ছেন। 

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন কাদের সিদ্দিকী। এরপর থেকে গুঞ্জন ওঠে কাদের সিদ্দিকী আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাঁধছেন। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২৫-৩০টি প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের বহর নিয়ে ঢাকা থেকে লতিফ সিদ্দিকী ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী টুঙ্গিপাড়া যান। দলটির শতাধিক নেতাকর্মী তাতে অংশ নেন। এ সময় কাদের সিদ্দিকীর সহধর্মিণী নাসরিন সিদ্দিকী, ছোট ভাই মুনসুর আল মামুন আজাদ সিদ্দিকী, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীরপ্রতীক, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক লতিফ সিদ্দিকী কি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগ দিচ্ছেন? এমন প্রশ্ন টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক মহলে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। লতিফ সিদ্দিকী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আমি একমঞ্চে তখনই বসেছি, যখন তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটা আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমার রাজনৈতিক বিবেচনায় আমি বুঝতে সক্ষম হয়েছি যে, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে সে অকুণ্ঠ সমর্থন করবে, এই শর্তেই তাকে সমর্থন করেছি। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করি। আমি একজন আওয়ামীলীগার। আমি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটভুক্ত যেকোনো দলের সভায় যেতে পারি।’

২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক সভায় হজ, তাবলিগ জামাত ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পর্কে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিত্ব হারান লতিফ সিদ্দিকী। তখন তাকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। জেলায় জেলায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। দেশে ফেরার পর তাকে কারাগারে যেতে হয়। পরে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার গাড়িতে হামলা হয়। প্রতিবাদে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিনি অবস্থান ধর্মঘট করেন। টানা সাত দিন অবস্থানের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে নির্বাচন থেকে সরে যান তিনি। এরপর থেকে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

আওয়ামী লীগে ফেরার ইঙ্গিত পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, না, এ রকম কোনো ইঙ্গিত আমি পাইনি। দলে ফেরা নিয়ে আওয়ামী লীগের কারও সঙ্গে আমার আলাপ হয়নি। নির্বাচন সামনে রেখে হঠাৎ আবার কেন রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়েছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমাকে বাদ দিলেও আমি এখনও মনে-প্রাণে আওয়ামীলীগার। বর্তমান সরকারের প্রতি বিএনপি-জামায়াতের হুমকির বিরুদ্ধে মাঠে এসেছি। নির্বাচন করার জন্য আসিনি। বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে, তারা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করবে। আমি মনে করি, এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আমার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এসেছি। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক। কালিহাতীতে যারাই আওয়ামী লীগের লোক, স্বাধীনতার পক্ষের লোক, তাদের বলতে এসেছি, তোমরা সতর্ক হও, তোমরা ঐক্যবদ্ধ হও। আমি নির্বাচন করতে আসিনি। আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে সামরিক শাসনবিরোধী গণতন্ত্র হত্যাকারী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সেটাকে যদি সমুন্নত রাখতে চাই, তাহলে আমাকে তৎপর হতে হবে। তাই আমার এই তৎপরতা। বর্তমানে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি আঘাত হানার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক কিছু শক্তি। যারা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিরোধিতা করেছে। তারা বাংলাদেশে তাদের মনের মতো একটি পুতুল সরকার গঠন করতে চাচ্ছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে চাচ্ছে। তারা গণতান্ত্রিক একটি সরকারকে উৎখাত করতে চায়। ভোট কারচুপি সবসময় ছিল। বিএনপিই তো ভোট কারচুপির পথ দেখিয়েছে। বিএনপি যদি অপতৎপরতা দেখায়, সেই অপতৎপরতা বন্ধ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ অনেক কিছুই করবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেটা লিুপ্ত হয়ে গেছে। হ্যাঁ, জনগণ যদি আন্দোলন করে এই সরকারকে হটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় তাহলে হবে। তবে বিএনপির সঙ্গে জনগণ কোথায়? একটি কথা রয়েছে, আন্দোলনে যে জেতে, নির্বাচনেও সে জেতে। আন্দোলনে হারলে ভোটেও সে হারে। আন্দোলনে আওয়ামী লীগকে পরাস্ত করা এত সোজা কথা নয়। তাই আগামীতে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিকে ভোটের মাধ্যমে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করবে।

লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো তিনি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী হন। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন তিনি। সে সময় তিনি ডাক, তার ও টেলিযোযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা