প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৩ ২২:২৭ পিএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৩ ২২:২৮ পিএম
আমদানির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আলুর বাজারে। দেশের কয়েকটি জেলায় আলুর দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমার খবর পাওয়া গেছে। তবে রাজধানীর বাজারে শুক্রবার (৩ নভেম্বর) পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি আগের দরেই বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার প্রথমবারের মতো আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার দুটি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আলু আসতে শুরু করেছে। এদিন দিনাজপুরের হিলি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ২৩২ মেট্রিক টন আলু আমদানি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রায় এক লাখ টন আলু আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশের হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক জানান, হিলির বাজারগুলোতে আলুর দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। আগে লাল আলু বিক্রি হতো ৬৫ টাকায়, শুক্রবার সেটি ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আবার হল্যান্ডের আলু আগে ছিল ৫৫ টাকা, শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা কেজি। স্থানীয় পাইকাররা জানান, হিলিতে আমদানির অল্প কিছু আলু ঢোকার পরই দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে গেছে। আমদানির পরিমাণ বাড়লে দাম আরও কমবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আলু আমদানি হওয়ায় সেখানে কেজিতে ৭ থেকে ৮ টাকা কমেছে। বৃহস্পতিবার যে আলু ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, সেটি শুক্রবার ৪২ থেকে ৪৩ টাকায় নেমে এসেছে।
বগুড়া অফিস জানায়, এ জেলায় এমনিতেই আলু উৎপাদন বেশি হয়। তার মধ্যে আমদানি করা তিন টন স্টিক জাতের আলু বাজারে ঢুকেছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজাবাজারে এসব আলু ঢোকায় শুক্রবার থেকে পাইকারি বাজারে ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে কেজিতে ৮/১০ টাকা কমেছে। এখন হল্যান্ডের আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা, আর দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬২ থেকে ৬৪ টাকায়। অথচ বৃহস্পতিবার এই বাজারে হল্যান্ডের আলু ৬০ থেকে ৬২ টাকা এবং দেশি আলু ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারের আলু বিক্রেতারা জানান, তারা ভারতীয় আলু ৩৭ টাকা কেজি দরে কিনেছেন। এই আলু ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। রাজাবাজার আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, আমদানি শুরু হওয়ার পর বাজারে আলুর দাম কমতে শুরু করেছে।
রংপুর অফিস জানায়, আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে রংপুরে খোলাবাজারে আলু বিক্রি করা হবে। শুক্রবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসানের সভাপতিত্বে জেলার আলু ব্যবসায়ী, হিমাগার মালিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক, কৃষি বিভাগ, বিপণন অধিদপ্তরের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, রংপুর জেলার ৪১টি হিমাগারে ২২ হাজার ৩৭৭ মেট্রিক টন খাওয়ার আলু মজুদ রয়েছে। জেলায় প্রতি মাসে ১০ হাজার মেট্রিক টন আলুর চাহিদা রয়েছে। আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা বীজ আলু রেখে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দামে জেলার প্রতিটি হিমাগার থেকে আলু বিক্রি করা হবে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রংপুরে কেজিতে ৫ টাকার মতো কমেছে আলুর দাম। ৬০ টাকা কেজির আলু ৫৫ টাকা ও ৫০ টাকা কেজির আলু ৪৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
রাজধানীর মৌচাক মোড় থেকে শান্তিনগর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রতিদিন সকালে মাছ, মাংস, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে ভ্রাম্যমাণ বাজার বসে। শুক্রবার সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, হল্যান্ডের আলু ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।