কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৩ ২১:৫৪ পিএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৩ ২২:০৯ পিএম
শান্তি সমাবেশে হামলার শিকার পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার। প্রবা ফটো
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র মো.আনোয়ার হাওলাদারের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে সাবেক পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটন মোটেল হলিডে হোমস চত্বরে শান্তি সমাবেশ চলাকালে তার ওপর এ হামলা করা হয়। পরে পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশে একটি ওষুধের দোকানে দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হন। হামলায় তার মাথা ফেটে গেছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়েছে।
হামলায় আরও চারজন আহত হয়েছে। তারা হলো- আনোয়ার হাওলাদারের মালিকাধীন আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন, সমর্থক আল আমীন, এছাহাক হাওলাদার ও বেল্লাল হাওলাদার।
আনোয়ার হাওলাদার জানান, পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য পর্যটন করপোরেশনের মোটেল হলিডে হোমস চত্বরে যান। এ সময় সাবেক মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা হঠাৎ করে হামলা চালান। তাকে কিল-ঘুসি মারতে থাকেন। এতে তার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। একপর্যায়ে বারেক মোল্লার অনুসারীরা সমাবেশস্থল থেকে জোর করে বের করে দেন। তিনি গিয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশে একটি ওষুধের দোকানে আশ্রয় নেন। এরপর দ্বিতীয় দফা তার ওপর হামলা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, ‘আনোয়ার হাওলাদার একসময় জাতীয় পার্টি করতেন। এখন বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে তার চলাফেরা। আমাদের পূর্বনির্ধারিত শান্তি সমাবেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢুকতে গেলে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন। তাকে কেউ মারধর করেনি, কেউ হামলাও করেনি। তিনি অনুকম্পা পাওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন।’
মহিপুর থানার ওসি ফেরদৌস আলম খান বলেন, ‘এ ঘটনায় কারও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
আনোয়ার হাওলাদার পূর্বে জাতীয় পার্টি (জাপা) করতেন। মহিপুর থানা জাপার সভাপতি পদে থেকে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে ভোটের আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিব্বুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনের মাঠে কাজ করেন। এর পর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন।ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আবদুল বারেক মোল্লাকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বরিশাল-১ আসনের এমপি ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। মূলত এরপর থেকেই বারেক মোল্লার সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী বিরোধ রাজনৈতিক বিরোধে রূপ নিতে থাকে।