বিএনপির অবরোধ
মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৪১ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৫৯ পিএম
বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিন দিনের অবরোধের দ্বিতীয় দিনে বুধবার (১ নভেম্বর) মানিকগঞ্জের আরিচা-পাটুরিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটে অন্যান্য দিনের চেয়ে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল করছে অনেকটাই কম। সকাল থেকে আরিচা-কাজিরহাট ও পাটুরিয়া-দৌলদিয়া নৌ-রুটে দুই-তিন ঘণ্টা পরপর একটা ছোট ফেরি ছাড়লেও দূরপাল্লার গাড়ি না থাকায় বড় ফেরি ছাড়তে দেখা যায়নি। লঞ্চ চলাচলও নেই বললেই চলে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে যান চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। দুই পারেই যানবাহনের সহজলভ্যতা থাকলেও যাত্রী ছিল খুবই কম। তবে মানিকগঞ্জের তুলনায় রাজবাড়ী অংশে যান চলাচল ও যাত্রীর সংখ্যা অনেকটা স্বাভাবিক ছিল।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে প্রতিদিনের মতো দূরপাল্লার যাত্রী ও যাত্রীবাহী গাড়ি কম থাকলেও পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান পার হতে দেখা গেছে। মহাসড়কে দূরপাল্লার গাড়ি দেখা না গেলেও মাঝেমধ্যে প্রাইভেটকার, পিকআপ ভ্যান, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে দুপুরের পর থেকে সেলফি পরিবহনগুলো দুই-একটা করে ছাড়া শুরু করে।
অবরোধকে কেন্দ্র করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পারাপারের যাত্রীরা। তাই অবরোধের প্রভাব কিছুটা হলেও পড়েছে আরিচা-কাজিরহাট এবং পাটুরিয়া-দৌলদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটে।
দুপুরের দিকে পাটুরিয়া ঘাটের সেলফি পরিবহনের চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অবরোধের প্রথম দিন রাস্তায় আসিনি। আজ (বুধবার) দুপুরে আসলাম। দেখি যাত্রী পেলে হয়তো ঢাকার দিকে যাব। রাস্তায় তো যাত্রীই নাই। আবার ভয়ও আছে। কোথায় কখন কী পরিস্থিতি হয় বলা তো যায় না।’
ঘাটের ফল ব্যবসায়ী সবজাল হোসেন বলেন, অবরোধের কারণে ঘাটে যাত্রী নাই। অন্যান্য দিন দুপুর পর্যন্ত ৬০০-৭০০ টাকা বিক্রি হলেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত বিক্রি করেন মাত্র ৮০ টাকা।
ফেরিতে শিশুদের বই বিক্রি করেন হকার মন্তাজ। তিনি বলেন, ‘অবরোধের কারণে আমাদের বেচা-বিক্রি নাই। কারণ রাস্তায় গাড়ি নাই, যাত্রী নাই। অবরোধে আমাদের মতো গরিব মানুষের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফেরিতে হকারি করি। ফেরি যদি না চলে, আমরা চলুম কেমনে?’
পাটুরিয়া ফেরিঘাটের টিকিট চেকার রিপন বলেন, বড় ফেরিগুলো বন্ধ। দূরপাল্লার কোনো গাড়ি নেই। শুধু পণ্যবাহী মিনি ট্রাক, পিকআপ আর দুই-একটা প্রাইভেটকার পারাপার হচ্ছে।
বুধবার সকালে রাজবাড়ীর বড়পুল, গোয়ালন্দ মোড়, গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার মহাসড়কে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কপথে মোটামুটি যানবাহন রয়েছে। তবে লঞ্চ ও ফেরিতে যানবাহন এবং বাসগুলোতে যাত্রীসংখ্যা ছিল খুবই সামান্য। সকালে দৌলতদিয়া-ফরিদপুর, রাজবাড়ী মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, জীবিকার তাগিদে সকাল থেকেই ছুটছেন লোকজন। যানবাহন চলছে স্বাভাবিক দিনের মতোই। তবে দূরপাল্লা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাস কম দেখা গেছে। বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম অন্যদিনের মতো স্বাভাবিক। সড়কে সতর্ক অবস্থায় ছিল পুলিশ। কাউকে সন্দেহ হলে করা হচ্ছে তল্লাশি।
তবে অতীতে অবরোধের অভিজ্ঞতায় কিছুটা আতঙ্ক কাজ করছে জনসাধারণের মধ্যে। তারা বলছে, সড়কে উঠলে ভয় করছে, তবু জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। রাজবাড়ী জেলাতে অনেক স্থানে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকায় স্বস্তি পাচ্ছে।
সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা কয়েকজন বলেন, অবরোধে তো সবকিছুই স্বাভাবিক। জীবিকার তাগিদে ছুটতে হচ্ছে। তবে অতীতের দিনগুলোতে দেখেছেন, অবরোধে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা। তাই কিছুটা আতঙ্কে আছেন। তবে সড়কে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ দেখে মনে সাহস পাচ্ছেন।
নান্নু মল্লিক নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘অবরোধে সবকিছুই তো স্বাভাবিক। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকলেই ভালো। তবে দূরপাল্লার বাস সড়কে খুবই কম। লোকাল বাসগুলোতে যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম।’
রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন বলেন, তারা বাস চলাচল বন্ধের বিষয়ে মালিকদের কোনো নির্দেশনা দেননি। মালিকদের বাস চালু রাখতে বলেছেন। পর্যাপ্ত যাত্রী থাকলে বাস চলাচল করবে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে অনেকে চালাবে না। এটা মালিকদের ব্যক্তিগত বিষয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ১৮টি ফেরি রয়েছে। যখন যত ফেরি প্রয়োজন তা দেওয়া হচ্ছে। ঘাটে যানবাহন এলেই সরাসরি ফেরিতে উঠতে পারছে। বর্তমানে সবগুলো ফেরি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, বিএনপির ডাকা তিন দিনব্যাপী অবরোধে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তল্লাশি চালাচ্ছে।