অবরোধের দ্বিতীয় দিন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৩৯ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৫৮ পিএম
বিএনপির টানা তিন দিনের অবরোধের দ্বিতীয় দিন ছিল বুধবার (১ নভেম্বর)। এদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস তেমন একটা ছেড়ে যায়নি। এতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাড়তি ভাড়া দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলাচল করেছেন। তবে প্রথম দিনের তুলনায় এদিন রাস্তায় যান চলাচল বেড়েছে।
বুধবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল করেনি। আর ভৈরব থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী বাসসহ ২৮টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বেড়েছে যাত্রীদের ভোগান্তি। বেড়েছে যাতায়াত খরচ।
তবে ভৈরব বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিমুল মিয়া বলেছেন, কিছু সংখ্যক গাড়ি চলছে। ভৈরব বাসস্ট্যান্ডের প্রতিটি কাউন্টারে লোক রয়েছে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাস মালিকরা বাস রাস্তায় চলাচল বন্ধ রেখেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাস মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠনটি তালাবদ্ধ রয়েছে। ভৈরব বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে, পণ্য পরিবহনের মালবাহী ট্রাক, জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহকারী গাড়ি ও সিএনজি চলাচল করছে।
এ সময় সিএনজি চালক লিটন মিয়া জানান, ৩১ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ সদর জেলা থানা মোড়ে দুটি সিএনজি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। তাই যেতে চাচ্ছি না। জীবন জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হয়েছি। ভয় হচ্ছে তবুও যাত্রীরা যেখানে যান সেখানে নিয়ে যাচ্ছি।
কিশোরগঞ্জে যাওয়া যাত্রী আলমগীর মিয়া বলেন, ‘ভাড়া নিচ্ছে বেশি আবার গাড়িও পাচ্ছি না। ভয়ে রয়েছি যাত্রাপথে কখন জানি কী হয়।’
কটিয়াদী যাওয়া যাত্রী জমসেদ মিয়া জানান, ‘হরতালের কারণে ৬০ টাকার ভাড়া ৮০/১০০ টাকা দিতে হচ্ছে। তাও আবার সব গাড়ি যাচ্ছে না।’
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী রতন মিয়া বলেন, ‘আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাব কিন্তু কোনো গাড়ি না পেয়ে সিএনজি দিয়ে ভৈরব এসেছি। ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। সিএনজিই এখন যাত্রাপথে মূল ভরসা।’
এ বিষয়ে পরিবহন শ্রমিক লীগ নেতা শাহাজাহান মিয়া বলেন, ‘অবরোধের কারণে গাড়ি চলছে না। তাই বেকার হয়ে বসে আছি। এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকরা না খেয়ে মরবে।’
ভৈরবের ইউএনও মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, ‘সড়কে সড়কে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।’
হবিগঞ্জের সব রুটে চলছে বাস
বুধবার হবিগঞ্জ থেকে অভ্যন্তরীণ সব রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এদিন সকাল থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনের মাস্টার আবুল খায়ের চৌধুরী।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক শঙ্খ শুভ্র রায় জানান, জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে সব ধরনের যান চলাচল করছে। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
কুষ্টিয়ায় যানবাহন চলাচল বেড়েছে
বুধবার কুষ্টিয়ায় যান চলাচল মঙ্গলবারের তুলনায় বেড়েছে। এদিন সকাল থেকে জেলার মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ চোখে পড়ে। দুপুর ১২টার দিকে শহরের মজমপুর রেলগেটে যানবাহনের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশকে। বিআরটিসি বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও অবরোধের প্রথমদিনের মতো অবরোধের দ্বিতীয় দিনেও যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ ছিল।
রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন কম ছিল
বুধবার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে যানবাহন একেবারে কম ছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষ। এদিন ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুরের গড়ের মাথায় বেলা ৩টার সময় গিয়ে যাত্রীবাহী দূরপাল্লার ও স্বল্পপাল্লার কোনো যানবাহন দেখা যায়নি।
ফুড কোম্পানির জোবাইদুল ইসলাম জানান, ‘কোম্পানির কাজে নিয়মিত রংপুর থেকে পীরগঞ্জ বাসে যাতায়াত করি। অবরোধের কারণে বাস না থাকায় বাধ্য হয়ে অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে যাতায়াত করছি। সময় অপচয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে মানুষকে।’
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুর ওভারব্রিজসংলগ্ন দোকানি শ্রী সুজয় চন্দ্র রায় জানান, ‘সকাল থেকেই কোনো প্রকার দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল করতে দেখিনি। মাঝে মাঝে মালবাহী ট্রাক চলাচল করেছে।’
মিঠাপুকুরের শ্যামলী কাউন্টারের ম্যানেজার সাগর ইসলাম জানান, অবরোধের কারণে তিন দিন আমাদের বাস সার্ভিস বন্ধ আছে। বাস বন্ধ থাকার কারণে কাউন্টার বন্ধ রেখে বাড়িতে অলস সময় কাটাচ্ছি।
বড়দারগাহ হাইওয়ে থানার ওসি সোলাইমান শেখ জানান, ‘যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক আমাদের দুটি মোবাইল টিম কাজ করছে।’
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকরা]