হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:০৫ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:০৭ পিএম
সাগরকন্যাখ্যাত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা।
সাগরকন্যাখ্যাত পটুয়াখালীর কুয়াকাটার সাগরতীরের আবাসিক হোটেল ‘সৈকত’-এর ৪০টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে গতকালের (মঙ্গলবার) জন্য পাঁচটিরও বেশি কক্ষ বুকিং করেছিলেন পর্যটকরা। বিএনপি-জামায়াতসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তিন দিনের অবরোধ ঘোষণা করায় তা বাতিল করা হয়েছে বলে জানান হোটেলের পরিচালক ও কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জিয়াউর রহমান। হঠাৎ রাজনৈতিক অস্থিরতা পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই হোটেল ব্যবসায় ধস নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। পর্যটকে মুখরিত হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এমন অবস্থা হয়েছে বলেও জানান হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা।
হোটেল সৈকতের কর্মীর সংখ্যা ২০, তাদের পারিশ্রমিক, বিদ্যুৎ বিলসহ দৈনিক অন্যান্য খরচের পরিমাণ ২০ হাজার টাকার মতো। এসব তথ্য জানিয়ে হোটেলের পরিচালক শেখ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘হোটেলে মোট ৪০টি কক্ষ। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবারের জন্য চার-পাঁচ দিন আগেই ৭০ শতাংশ বুক হয়ে যেত। কিন্তু চলতি সপ্তাহে বড় ধাক্কা খেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূলত বিএনপির শনিবারের মহাসমাবেশ থেকে হরতালের ঘোষণা, পরে অবরোধের কর্মসূচি দেওয়ার পর সব বুকিং বাতিল হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত যে বুকিং ছিল এতে অন্তত ৫০ হাজার টাকা আয় হতো। কিন্তু আয় নিয়েও শঙ্কিত। অথচ এ সময়ে অনেক টাকা খরচ হবে। এমন অবস্থা চললে হোটেল বন্ধ করার চিন্তা করতে হবে। এতে কর্মীরা কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়বেন।’ তবে পর্যটন মৌসুমের শুরুতে অন্যান্য বছরের তুলনায় পর্যটকদের ভালো সাড়া মিলছিল বলেও জানান তিনি।
একই অবস্থা কুয়াকাটার ১৮০টি হোটেলের। কুয়াকাটা গেস্টহাউসের পরিচালক ও কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মোতালেব শরীফ জানান, তার হোটেলে কক্ষ ২২টি, ৭০ জন অতিথি থাকেতে পারেন। হরতাল-অবরোধের কারণে বুকিং একদম কমে গেছে। পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণে আগ্রহী নন। হোটেল মালিক কর্মচারীদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে বহু কর্মী চাকরি হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এ সময়টাতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। হোটেল-মোটেলে কোনো কক্ষই ফাঁকা থাকে না। আর এ বছর মৌসুমের শুরুতে কুয়াকাটায় কোনো পর্যটক নেই। হোটেলের সব কক্ষই খালি পড়ে আছে। কারণ পর্যটনের সঙ্গে নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত পর্যটক আসবে না। এতে আবাসিক হোটেলগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হবে।’
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতির সঙ্গে কুয়াকাটার পর্যটন সম্পর্কিত। মৌসুমের শুরুতেই বড় ধাক্কা লেগে গেল। এখানে সরাসরি পাঁচ হাজার লোক পর্যটন সেবায় জড়িত। তাদের পরিবারের রয়েছে ২৫ হাজার সদস্য। এভাবে চলতে থাকলে বেকারত্ব ও সরকারের আর্থিক ক্ষতি হবে।’
কুয়াকাটা ট্যুরিজমের গাইড পরিচালক কেএম বাচ্ছু বলেন, ‘আমাদের ২০টি ট্যুরিজম বোট রয়েছে। প্রতিটি বোটের ৪০ জন করে স্টাফ। বোট মালিকরা স্টাফদের বেতন দেওয়া নিয়েই দুশ্চিন্তার আছেন। এভাবে হরতাল-অবরোধ চলতে থাকলে কর্মী ছাঁটাই করা হবে।’