প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২২ ১৭:২৫ পিএম
খাগড়াছড়ি । ফাইল ফটো
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বাড়ি ও গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে ২৪ ঘণ্টার অবরোধে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে; এতে পাহাড়ে ভ্রমণে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিএনপির ডাকে শুরু হওয়া অবরোধে ঢাকাসহ সারা দেশের সঙ্গে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ পথেও কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।
সকালে সড়কে বিএনপির নেতাকর্মীদের পিকেটিং করতে দেখা যায়। তারা জেলা শহরের মহাজনপাড়া, ভাঙা ব্রিজ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাইল্যাছড়ি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে এবং টায়ারে আগুন দেয়।
এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাছ কেটে অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। পরে নিরাপত্তা বাহিনী এসে তাদের সরিয়ে দেয়।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মুহাম্মদ রশিদ সকালে বলেন, “সকাল থেকে অবরোধ চলছে। যেন কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকে তৎপর রয়েছে পুলিশ সদস্যরা। জেলা সদরে বাড়তি পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।”
শনিবার ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে এই হামলা চালানো হয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে আওয়ামী লীগ।
সেই হামলার প্রতিবাদে ডাকা অবরোধের মধ্যে পাহাড়ে বেড়াতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকরা। সকালে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি এসে অনেকেই জানতে পারেন অবরোধের কথা। তারা জেলা শহরে আটকা পড়েছেন। কারণ, সাজেকের পথে কোনো গাড়ি যাচ্ছে না।
পর্যটক নাজমুল শেখ জানান, অবরোধের বিষয়টি তার জানা ছিল না। সকালে গাড়ি থেকে নামার পর তিনি অবরোধের কথা জানতে পারেন।
পর্যটক সৌরভ সূত্রধর বলেন, “অবরোধের মধ্যে সাজেকে যাচ্ছি না। ওখানে (সাজেকে) আমাদের হোটেল বুক করা ছিল। এখন বেড়াতে এসে মন খারাপ হয়েছে।”
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক নাঈম ইসলাম বলেন, “আমরা ১২ সদস্য বেড়াতে এসেছি। সাজেকে আমাদের দুই রাত যাপন করার কথা। কিন্ত এখন গাড়ি যাচ্ছে না। সকাল থেকে শাপলা চত্বরে ঘুরপাক খাচ্ছি। আমাদের কটেজেও বুকিং দেওয়া আছে। অবরোধের মধ্যে এসে এখন ভোগান্তিতে পড়েছি।”
সাজেক কাউন্টারের লাইনম্যান মো. আরিফ বলেন, “বিএনপির ডাকা অবরোধে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই আমরা সাজেকের উদ্দেশে কোনো গাড়ি যেতে দিচ্ছি না। পর্যটকরা দুর্ভোগে পড়েছেন এটা সত্য। কিন্তু প্রশাসন যদি কোনো উদ্যোগ না নেয় তাহলে আমরা গাড়ি ছাড়তে পারব না।”
খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খোকন বলেন, “অবরোধের মধ্যে পরিবহন শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাবে না। আমাদের গাড়ির কাউন্টারগুলো বন্ধ রেখেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গাড়ি ছাড়ব।”
বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান বিষয়ক সহসম্পাদক ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, “সকাল থেকে অবরোধ পালিত হচ্ছে। অবরোধে জনসমর্থন রয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষও বিক্ষুদ্ধ। আওয়ামী লীগ মানুষের সমর্থন হারিয়েছে।”