নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৩ ০৮:৫৮ এএম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩ ১১:০৬ এএম
দেশি কাপড়ের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার হিসেবে খ্যাত নরসিংদীর বাবুরহাটে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
রবিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেখেরচরের বাবুরহাটের বণিক সমিতির অফিসসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছিট কাপড়পট্টি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তে আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের নরসিংদী সদর, মাধবদী, পলাশ, মনোহরদী ও আড়াইহাজারের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অর্ধশতাধিক দোকান ভস্মীভূত হয়েছে।
শেখেরচর-বাবুরহাট বণিক সমিতির সভাপতি ও শীলমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, কমপক্ষে ৮০টি দেশি কাপড়ের পাইকারি দোকান পুড়ে গেছে। তদন্তের পর ক্ষতিগ্রস্ত মোট দোকানের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
সরেজমিনে গিয়ে ব্যবসায়ী, বণিক সমিতির নেতা, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি শুক্র থেকে রবিবার পর্যন্ত পাইকারি এ হাটে বেচাকেনা চলে। ছোটবড় প্রায় আড়াই হাজার দোকানের এ হাটের শেষ দিন রবিবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ বণিক সমিতির পুরাতন অফিসের গলিতে আগুনের ধোঁয়া দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাজারের গলির অন্য দোকাগুলোয়। ভয়াবহ আগুনের ধোঁয়া ও লেলিহান শিখায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর পেয়ে দোকান মালিকরা লোকজন নিয়ে এসে মালামাল সরানোর চেষ্টা ও আগুন নেভানোর কাজ করেন। অনেক ব্যবসায়ী আগুনের ভয়াবহতা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মালসহ পুরো দোকান পুড়ে ছাই হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়বেন বলে জানা গেছে।
বাজারের ব্যবসায়ী আরমান মিয়া বলেন, ‘আমার দোকানের সব থ্রি-পিস পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকানে ১২ থেকে ১৪ হাজার থ্রি-পিস ছিল; যার প্রতি পিসের মূল্য ১ হাজার টাকা। আনুমানিক প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে।’
নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম তালেব হোসেন বলেন, ‘এটি খুবই দুঃখজনক আমাদের বাজারে পানির রিজার্ভার নেই। রিজার্ভারের জন্য সার্ভে করা হয়েছে কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আমরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সর্বাত্মক সহযোগিতা পেয়েছি।’
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আগুনের খবর পেয়ে ২ শতাধিক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যায়। বেশিরভাগ জায়গায় দেখা যায় আগুন লাগার সময় একটি চক্র লুটপাটের চেষ্টা করে থাকে। এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে আমাদের ডিবি পুলিশের সদস্যরা সে দায়িত্ব পালন করেছে। অন্য পুলিশ সদস্যরা যানজট ও বাড়তি লোকজনের ভিড় কমাতে দায়িত্ব পালন করে ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেছে।’
ঢাকা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ারুল হক জানান, বাজারের ভেতরে সড়ক সরু থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে সমস্যা হয়েছে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পোহাতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে জানা যায়নি। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে। কোনো হতাহতের খবর পাইনি। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে বৈদ্যুতিক খুঁটির ল্যাম্পপোস্ট থেকে শর্টসার্কিট হয়ে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ড. বদিউল আলম বলেন, ‘এটি একটি বিস্তৃত বড় বাজার। ফায়ার সার্ভিসসহ সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আগুনের ঘটনার কারণ জানতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চিত্রা শিকারীকে প্রধান করে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বণিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টদের সদস্য করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়ার চষ্টা করা হবে।’