রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৩ ২৩:০৩ পিএম
রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের বোধিপুর বন বিহারের ২০তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু হয়েছে।
গত শনিবার বিকালে শুরু হওয়া দানোৎসবে তুলা থেকে চরকায় সুতা তৈরি করে কোমর তাঁতের মাধ্যমে তৈরি কঠিন চীবরটি রবিবার (২৯ অক্টোবর) বোধিপুর বন বিহার অধ্যক্ষ জিন বোধি মহাস্থবিরের হাতে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, সংঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান, বুদ্ধমূর্তি দানসহ নানা দানের আয়োজন করা হয়। এ সময় কল্পতুরু ও কঠিন চীবর মাথায় নিয়ে নেচে গেয়ে কঠিন চীবর দানোৎসবে যোগ দেয় প্রায় হাজারো বৌদ্ধ পুণ্যার্থী।
অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচক ছিলেন- রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির, ইন্দ্রগুপ্ত মহাস্থবির। আরও উপস্থিত ছিলেন- রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য ঝর্ণা খীসা, বোধিপুর বন বিহারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিজয় কুমার কার্বারি প্রমুখ।
জানা যায়, গৌতম বুদ্ধের সময় বিশাখা নামে এক উপাসিকা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে এই কাপড় বুদ্ধকে দান করেন। তারই অনুকরণে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা বর্তমানে কঠিন চীবর দান পালন করে আসছে। এ অনুষ্ঠান-উৎসবের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধরা তথাগত গৌতম বুদ্ধের পরম কল্যাণময় শিক্ষাচর্চায় ব্রত হয়। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্রকে বলা হয় চীবর। এ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের পরিধেয় বস্ত্রের অভাব দূর করতেই কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান।