চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২২ ২২:২৬ পিএম
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২২ ১১:২৩ এএম
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে শ্রমিক মাসুদ হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি : প্রবা
চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে শ্রমিক মাসুদ হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির নাম মো. সোহাগ ও সাইদুল হোসেন। গাড়ি রাখা নিয়ে তর্কের জেরে মাসুদকে হত্যা করা হয়।
শুক্রবার (২১ অক্টোবর) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল কবির এসব খবর নিশ্চিত করেছেন।
জাহেদুল কবির বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বাকলিয়া থানার মোজাহের কলোনি থেকে সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাশীপুর থেকে সাইদুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় ‘
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘১৭ অক্টোবর ঘটনার দিন সকালে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে পার্কিং নিয়ে পিকআপ চালক রাসেলের সঙ্গে মাসুদের তর্কাতর্কি হয়। তর্কাতর্কির জেরে সেদিন সন্ধ্যায় রাসেল ও তার সহযোগীরা আড়তে ঢুকে মাসুদকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করেন।
এ সময় নিজেকে রক্ষায় হাতে থাকা লোহার হুক দিয়ে রাসেলদের আঘাত করেন মাসুদ। তখন সাইদুল পকেট থেকে ছোরা বের করে মাসুদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। মাসুদ লুটিয়ে পড়লে তারা পালিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরাটি সাইদুলের তথ্যানুযায়ী বাকলিয়ার হাজী আমিনুর রহমান সড়কের হিফস এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের পাশে একটি খালি জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজনসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা পিকআপ ভ্যান চালানোসহ নিম্ন আয়ের বিভিন্ন পেশায় জড়িত। সবাই থাকেন বাকলিয়ার বিভিন্ন বস্তিতে।’
এ ঘটনায় নিহত মাসুদের ছেলে মো. বাবুল বাদী হয়ে রাসেলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী হত্যায় সংশ্লিষ্ট আরও পাঁচজনের নাম জানতে পেরেছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
মাসুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার দিনভর কাজ বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানান খাতুনগঞ্জের শ্রমিকরা। রাতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা কাজে যোগ দেন। হামলাকারীদের ধরতে তারা ৪৮ ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দিয়েছিলেন।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাসুদের মৃত্যু হলে কাজ বন্ধ রেখে ফের বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে পুলিশ, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিশ্রুতি পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় তারা ফের কাজে ফেরেন।
প্রবা/টিএ/জেও