নয়াপল্টনে পুলিশ নিহত
টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ২২:০৯ পিএম
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ২৩:০৮ পিএম
নিহত পুলিশ সদস্য আমিরুল ইসলাম পারভেজ। প্রবা ফটো
পুলিশ সদস্য আমিরুল ইসলাম পারভেজের মৃত্যুতে নির্বাক হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা। একমাত্র বোনের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির বাতাস। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছে পরিবারটি। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দার মোল্লা।
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম ফিরোজ সিদ্দিকী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, পারভেজের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার ছিল। নদীভাঙনে তাদের বসতভিটা হারিয়ে গেলে তারা পাশের দপ্তিয়র ইউনিয়নের ফয়েজপুর গ্রামে বসবাস শুরু করেন। ফয়েজপুরে বসবাস করলেও এখনও তারা দৌলতপুরের ভোটার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পারভেজ ২০০৯ সালে পুলিশে যোগ দেন। তারা দুই ভাই। চাকরির জন্য পারভেজ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকেন। গ্রামের বাড়িতে তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভাই থাকেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বোন এসেছেন শ্বশুরবাড়ি থেকে। পারভেজ ২০১২ সালে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার বোলদার ইউনিয়নে বিয়ে করেন। তার ছয় বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।
পারভেজ ডিএমপিতে (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) কর্মরত ছিলেন। শনিবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। সেসময় সংঘর্ষ চলাকালে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এ ঘটনার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে কর্তব্যরত অবস্থায় পারভেজ নামে পুলিশ কনস্টেবলকে এক ছাত্রদল নেতা কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ-সংক্রান্ত ফুটেজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে।’ শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংঘর্ষে আহত চিকিৎসাধীন অন্য পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনত বিএনপি গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে সমাবেশের ঘোষণা দেয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘শান্তি সমাবেশ’ নামে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ নিয়ে দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনার মধ্যে পুলিশ সদস্য পারভেজকে হত্যা করা হলো।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকায় জানাজা হবে। এরপর মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। নিহতের পরিবার যেভাবে চাইবে সেভাবে হবে। পুলিশ তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোসহ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।’