সাভার (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ১২:৪৬ পিএম
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:০৭ পিএম
ঢাকাগামী বাসে তল্লাশি করছে পুলিশ। প্রবা ফটো
২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশ ঘিরে জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। একই দিনে তিন দলের সমাবেশ হওয়ায় মানুষের মনে এ উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বিএনপি নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কৌশলে ঢাকায় প্রবেশ করেছেন। এদিকে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরাও মিছিল করে জানান দিচ্ছেন তারাও প্রস্তুত রয়েছেন। শক্ত হাতে মোকাবিলা করবেন বিএনপির নৈরাজ্য। তবে একই দিনে জামায়াতে ইসলামীর শাপলা চত্বরে সমাবেশের ঘোষণার পর জনমনে এ আতঙ্ক দ্বিগুণ বেড়েছে। সবার মনে প্রশ্ন জাগছে, কী হতে যাচ্ছে ২৮ অক্টোবর।
এদিকে মহাসড়কে কমেছে অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা। তবে বাসমালিকদের দাবি, শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় বাস চলাচল কম থাকে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ ও র্যাব চেকপোস্ট বসিয়েছে। ঢাকাগামী যাত্রীদের তল্লাশি করা হচ্ছে এবং জানতে চাওয়া হচ্ছে ঢাকায় যাওয়ার কারণ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাড়ইপাড়া, জিরানী, ডিইপিজেড, বাইপাইল, নবীনগর, সাভার, হেমায়েতপুরসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে লোকাল বাস কম। দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও ঢাকার আশপাশ জেলার যাতায়াতের জন্য লোকাল বাসের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে অনেক যাত্রীকে। সেই সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি শেষে ঢাকায় প্রবেশ করছে কিছুটা আতঙ্ক নিয়ে। এ ছাড়া অনেক কর্মজীবী মানুষকে বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
রাজধানীর মিরপুরে একটি বেসরকারি গার্মেন্টসে মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা রেজউয়ান বারী বলেন, ‘আমাদের শুক্র ও শনিবার অফিস চালু থাকে। অন্য ছুটির দিন ভোরে এলে অনেক বাস পাওয়া যায় কিন্তু আজকের চিত্র ভিন্ন। লোকাল বাসের সংখ্যা অনেক কম। কয়েক ধাপে আমিনবাজার পর্যন্ত আসতে পেরেছি। রাজনৈতিক দল একই দিনে সমাবেশ ডাকায় মালিকপক্ষ গাড়ি ভাঙচুরের ভয়ে বাস বের করতে চায় না। জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’
ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা স্বজনকে দেখতে যাওয়ার কথা রোকেয়া জামানের। তবে বাস না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাকে।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ বাসের অপেক্ষায় থেকে ফিরে যাচ্ছি। বাসের জন্য অপেক্ষা করা আর সম্ভব না। আবার দুয়েকটি বাস এলেও সেখানে লোকজনের ভিড়ে ওঠা মুশকিল।’
ডি লিংক নামে বাসের চালক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ গাড়ি আটকে তল্লাশি করার সময় যানজট তৈরি হয়। তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীরা নেমে যান। এ ছাড়া রাজনৈতিক যে অবস্থা তাই মালিক গাড়ি নিয়ে বের হতে না করেছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসমালিক বলেন, দুই দলের কর্মীরাই বাস নিতে চায়। তাই ঝুঁকি মনে করে তার দুটি বাস বন্ধ করে রেখেছেন। অবস্থা ভালেঅ মনে হলে তিনি বাস মহাসড়কে বের করবেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক সাহা বলেন, ‘আমরা জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্বে আছি। ঢাকায় সমাবেশ ঘিরে কেউ যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সেজন্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। সমাবেশের কর্মীদের সঙ্গে যেন কোনো দুষ্কৃতকারী ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে তাই তল্লাশি করা হচ্ছে।’