বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:১৫ পিএম
নারী আনসার সদস্য আশা দেবীকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার নয়ন ইসলাম। প্রবা ফটো
বগুড়া শিবগঞ্জে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে প্রেমিকের হাতে খুন হন নারী আনসার সদস্য আশা দেবী। এ ঘটনায় প্রেমিক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে শিবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম- নয়ন ইসলাম। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার বানাইল পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী।
পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, আশা দেবী এবং আসামি নয়ন প্রতিবেশি। প্রতিবেশি হওয়ার সুবাদে আশা দেবীর সঙ্গে নয়নের মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা হতো। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত তিন মাস আগে নয়ন অন্য নারীকে বিয়ে করে। তারপর থেকে আশা দেবীর সঙ্গে আসামি নয়ন যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এটি নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ও দ্বন্দ তৈরি হয়। তখন অভিযুক্ত নয়ন আশা দেবীকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
তিনি আরও বলেন, ২৩ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে মন্দির থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে আশা দেবীর সঙ্গে আসামি নয়নের দেখা হয়। আশা দেবী তার বাড়ির দিকে রওনা দিলে অভিযুক্ত নয়নও আশা দেবীর পিছে পিছে তার বাড়ির দিকে যায়। একপর্যায়ে আশা দেবী বাড়িতে প্রবেশ করে মেইন গেইট বন্ধ করে দেয়। ওই সময় আশা দেবীর বাড়িতে কেউ ছিল না। আসামি নয়ন আশা দেবীর বাড়ির পিছনের ইটের প্রাচীর টপকিয়ে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে আশা দেবীর ঘরে প্রবেশ করে। আসামি নয়নকে আশা দেবীর ঘরে দেখে আশা দেবী রেগে যায়। কিছুক্ষণ পর নয়ন আশা দেবীর দুই হাত পিছন থেকে ধরে মোবাইল চার্জারের ক্যাবল দিয়ে পেঁছিয়ে ধরে। তারপর ওড়না দিয়ে আশা দেবীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা। মরদেহ সোফার পাশে ফেলে রেখে নয়ন বাড়ির পেছনের ইটের প্রাচীর টপকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রাতে আসামি নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নয়ন আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে।
গত ২৩ অক্টোবর রাতে নিজ বাড়ি থেকে ভজন মোহন্তের স্ত্রী আশা দেবীর গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আশা দেবী আনসার সদস্য ছিলেন এবং বানাইল উত্তরপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।