বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ২২:৪৮ পিএম
বান্দরবানের লামায় বিয়েবাড়িতে সামাজিক চাঁদা নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে বর, কনের বাবা-মা, সমাজের সর্দারসহ তিন পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। সর্দারের লোকজন বিয়েবাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি মালামাল ও মেয়েদের গহনা লুট করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৫ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শিলেরতুয়া গ্রামে কনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে থানা পুলিশের ২০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লামা থানার ওসি শামীম শেখ বলেন, ‘আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উভয়পক্ষের নয়জনকে থানায় আনা হয়েছে। কনেকে তার বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে নিরাপদে বরের গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
কনের বাবা মো. হাসান জানান, আলীকদম উপজেলা সদরের বাজারপাড়া এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে নাজুমল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ে ইয়াছমিন আক্তারের বিয়ে ঠিক হয়। বুধবার পূর্ব শিলেরতুয়া মেয়ের নানাবাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অধিকাংশ মেহমান খাওয়া-দাওয়া শেষ করে অন্যরা খাচ্ছিল। এলাকার মৌলভী ডেকে বর-কনের উপস্থিতিতে বিয়ে হচ্ছিল। এ সময় কথা উঠে সামাজিক চাঁদা নিয়ে। এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়েছে জানালে পূর্ব শিলেরতুয়া সমাজের সর্দার আব্দুল মন্নান ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘আমি সমাজের সর্দার। আমি ছাড়া অন্য কেউ কীভাবে সমাজের চাঁদা ঠিক করে।’ এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এলাকায় জানাজানি হলে মুহূর্তে সমাজের ৬০-৭০ জন লোক এসে বরপক্ষের মেহমান ও তাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায় এবং প্রচুর খাবার নষ্ট হয়।
কনের মা সালমা বেগম বলেন, ‘এলাকার সবাইকে দাওয়াত দিতে পারি নাই বলে এই ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ভাঙচুরের পাশাপাশি বিয়ের মালামাল ও মেয়েদের গহনা লুট করছে।’
সর্দার আব্দুল মন্নানের সঙ্গে থাকা ছোট ভাই মো. রফিক বলেন, ‘সমাজের চাঁদা নিয়ে কথা হচ্ছিল। সামান্য বিষয় নিয়ে বরপক্ষের লোকজন বড় ভাই সর্দারের গায়ে হাত তোলে। আমাদের তিনজনকে মেরে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পরে এলাকার লোকজন শুনে কী করেছে জানি না।’