‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায়’ সংবাদ প্রকাশ
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ১৭:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ১৮:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কৃষি দপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে কৃষি যন্ত্রাংশ, খুচরা সার ডিলার নিয়োগের কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১৮ অক্টোবর ‘যন্ত্রপাতি দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে কৃষি কর্মকর্তা উধাও’ শিরোনামে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায়কে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কৃষি অফিসে বাগেরহাট জেলা অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আব্দুস ছামাদ ভুক্তভোগী অভিযোগকারীদের বক্তব্য লিখিত আকারে গ্রহণ করেন। উপসহকারী কর্মকর্তা মহিবুল ইসলামের তদন্তের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দপ্তরে পাঠানোর আশ্বাস দেন তিনি। তবে, তদন্ত চলাকালীন সময়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিবুল ইসলাম অনুপস্থিত ছিলেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিবুল ইসলাম ২০২১ সালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেকে মোরেলগঞ্জে যোগদান করেন। ওই সময় তাকে বহরবুনিয়া ইউনিয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিছুদিন পরেই তিনি কাঁঠালতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর শেখের কাছ থেকে পাওয়ার টিলার দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ২০ হাজার, বিশারীঘাটা গ্রামের জামাল খানের কাছ থেকে পাওয়ার টিলার দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ৩০ হাজার, বারইখালী গ্রামের সবুজ কুমার ঢালীর কাছ থেকে খুচরা সার ডিলার তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণের কথা বলে ব্যাংক জামানত ৩০ হাজার টাকা, পঞ্চকরণ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হাওলাদারের কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা গ্রহণ করে, মহিষচরনী গ্রামের তিমি সরকারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যাংক জামানত ব্যাংকে জমা না দিয়ে অন্য নামে দেখিয়েছে জামানতের টাকা। তাদের দিয়েছে খুচরা সার বিক্রেতার ভুয়া আইডি কার্ড। এভাবে বিভিন্ন কৃষকের কাছ থেকে কৃষি যন্ত্রপাতি ও সার-কীটনাশকের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পকেটে তোলেন।
সম্প্রতি ওই সব কৃষকরা কৃষি যন্ত্রপাতি না পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্ত শুরু হওয়ার পরেই মহিবুল ইসলাম গা ঢাকা দেন।
এদিকে নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী অফিসার এসএম তারেক সুলতান বলেন, ‘উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগটি তদন্ত করতে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায়কে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত টিম করা হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী বলেন, ‘উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে দুই বার কারণ দর্শানো নোটিস প্রদান করা হয়েছে। দ্বিতীয় বারে তিনি একটি লিখিত জবাব দিয়েছেন। তবে, তার গা ঢাকার বিষয়ে তিনি অবহিত নন। অনুপস্থিতির বিষয়ে পাঁচ দিনের ছুটির একটি আবেদন করেছেন। তার তদন্ত চলমান রয়েছে।’
এ বিষয়ে কথা বলতে প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিবেদক একাধিকবার কৃষি কর্মকর্তা মহিবুল ইসলামের ফোনে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।