× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নবগঙ্গা নদী

খরস্রোতা নদীটি এখন সরু খাল

শরীফ স্বাধীন, মাগুরা

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ১২:১৩ পিএম

মাগুরা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা দূষণ ও দখলে সরু খালে পরিণত হয়েছে

মাগুরা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা দূষণ ও দখলে সরু খালে পরিণত হয়েছে

মাগুরা শহর ঘেঁষে বয়ে চলা নদী নবগঙ্গা ও কুমার নদ। নবগঙ্গায় একসময় বড় নৌকা, লঞ্চ এমনকি স্টিমারও চলত। শহরের পুরাতন বাজারসংলগ্ন ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত করার লক্ষ্যে গড়ে উঠেছিল বাণিজ্যিক ঘাট। এই ঘাট দিয়ে মানুষ কুমার-নবগঙ্গার বুক পেরিয়ে নৌপথে খুলনায় যাওয়া-আসা করত।

নদীটি বর্তমানে দূষণ, দখল আর পানির অভাবে মৃতপ্রায়। ২০১৯ সালে ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করেও শেষ রক্ষা হয়নি, বরং নদীটি পরিণত হয়েছে সরু খালে। এককালের খরস্রোতের নবগঙ্গা এখন বর্ষা ছাড়া বছরজুড়েই পানি স্বল্পতায় ভোগে। নদীর দুই পাড়ের বাসাবাড়ির স্যুয়ারেজ লাইনের সংযোগ ও বাজারের বর্জ্যে নদীটি দূষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়ে উঠেছে।

২১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নবগঙ্গা নদীর ৫০ কিলোমিটার অংশ যুক্ত হয়েছে মাগুরায়। মাগুরা শহরে কুমার নদে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে।

নবগঙ্গা নদী তীরবর্তী পুরাতন বাজার এবং নতুন বাজারের মাংসপট্টি, পোল্ট্রি মুরগির দোকান এবং কাঁচা সবজির দোকানের বিপুল আবর্জনা পলিথিন ব্যাগে ভরে ফেলা হচ্ছে নদীতে। প্রতিদিন জবাই করা গরু-ছাগল, মুরগির বিষ্ঠা এবং পচা মাছ নদীতে পড়ে পানি দূষণের পাশাপাশি প্রচণ্ড দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা বাড়ি ও দোকানের পেছনের অংশ বাড়িয়ে নদীর খালি জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে।

মাগুরা জেলা বণিক সমিতির আহ্বায়ক হুমায়ন কবির রাজা (৬০) বলেন, এই নদীকে কেন্দ্র করেই মাগুরা জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। আজকের যে জেটিসি রোড, জুট ট্রেডিং করপোরেশন (জেটিসি) অফিসসহ গোডাউন ছিল। পাট নিয়ে বড় বড় নৌকা খুলনা এবং ঢাকা যেত। এখন নদীর বড় সমস্যা দখল আর দূষণ। নদীর প্রবাহ যতটুকু ছিল সেটাও বন্ধ হয়েছে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলায়।


নদী ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারা বছর নদীকে জলাধার হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মাগুরায় নবগঙ্গা নদী পুনঃখননের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় শহরের পূর্বাশা ঘাট থেকে আলোকদিয়া সেতু পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়। তবে নদীপারের বাসিন্দা বারাসিয়া গ্রামের মাদ্রাসাশিক্ষক মো. বাবলু বলেন, নদীর গড় প্রস্থ যেখানে ৩০০ মিটার, সেখানে খনন হয়েছে ৮০ মিটার। তারপর খননের মাটি ফেলা হয়েছে নদীর মাঝেই। ফলে নদীর মাঝে মাটির ঢিবি তৈরি হয়েছিল, যা বর্ষা মৌসুমে আবার ধুয়ে নদীতেই গেছে। এ কারণে নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের প্রকৃত সুফল পাওয়া যায়নি। 

যশোর পাউবোর পানিবিজ্ঞান উপবিভাগের প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, মাগুরা অংশে শুষ্ক মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল) নবগঙ্গা নদীর গড় প্রবাহ থাকে ১৭ ঘনমিটার। আর গভীরতা ৩ ঘনমিটার। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে (আগস্ট) নদীর গড় প্রবাহ দাঁড়ায় ১৭০ ঘনমিটার পর্যন্ত। এ সময় নদীর গভীরতা থাকে ১০ ঘনমিটার। তবে নদীতে আগে পানির যে প্রবাহ ছিল খননের পরে সেই প্রবাহ কিছুটা কমেছে।

সারা বছর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পারনান্দুয়ালী গ্রামের আজমল বিশ্বাস বলেন, এখন যে মাছ পাওয়া যায় তা বাজারে বিক্রি করে পরিবার চালানো কষ্টের। নদী শুকিয়ে গেলেও নদীতে যে পানি ছিল তাতে মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে না বুঝে খনন করে মাছের আবাসস্থল ধ্বংস করায় মাছের পরিমাণ কমে গেছে। দেশীয় প্রজাতির শৈল, টাকি গজার, চেলা, কাল বাউশসহ অনেক মাছ এখন দেখতে পাওয়া যায় না। অধিকাংশ জেলে পরিবার বেঁচে থাকার তাগিদে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হয়েছে।

মাগুরা ‘নদী বাচাঁও’ আন্দোলনের নেতা এটিএম মহব্বত বলেন, নদী মানেই পানি। আর এই পানিই মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন। নদী ধ্বংস হওয়ার কারণ ব্রিজ তৈরিতে নদী শাসন। আন্তর্জাতিক নদী শাসন আইন না মেনে খামখেয়ালিভাবে নতুন ব্রিজ তৈরিতে নদী তার নাব্যতা হারাচ্ছে। আর শহরকেন্দ্রিক নদীগুলো পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে নদী দূষণ হচ্ছে।

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম মোহাম্মাদ সুজন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নবগঙ্গা নদীটি দখল ও দূষণমুক্ত করতে প্রতিবছর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানের মাধ্যমে দখলদারদের উচ্ছেদ করতে এ পর্যন্ত ১০টি মামলা দেওয়া হয়েছে। নদীর নাব্যতা ফিরে পেতে ইতঃপূর্বে খননের কাজ করেও আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুনরায় একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। যেটি পাস হলে খনন করে নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা