আসছে ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:৫৫ পিএম
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:০৬ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ নিরাপদে বহির্নোঙরে পাঠানো হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সতর্কতা বন্দরের নিজস্ব ‘অ্যালার্ট ৩’ জারি করা হয়েছে। এ সতর্কতা অনুযায়ী, জেটি থেকে সব জাহাজ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বহির্নোঙরে।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে বন্দরের নিজস্ব এলার্ট ৩ জারি করা হয়েছে। পণ্য খালাস বন্ধ রেখে জেটি থেকে জাহাজগুলো বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে জেটি, টার্মিনাল ও ইয়ার্ডে পূর্বনির্ধারিত ডেলিভারি কার্যক্রম এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব বলেন, কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে যাতে বন্দর চ্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাই লাইটার জাহাজগুলো নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কি গ্যান্ট্রি ক্রেন (কিউজিসি), রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) সহ সব কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট পর্যায়ক্রমে প্যাকিং করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় হামুন উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এটি উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৯টায় পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল হামুন। এজন্য পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারকে ৬ নম্বর ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এতে পাহাড় ধসের আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
১৯৯২ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রণীত ঘূর্ণিঝড়-দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী পুনর্বাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংকেত অনুসারে চার ধরনের সতর্কতা জারি করে বন্দর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর সংকেত জারি করলে বন্দর প্রথম পর্যায়ের সতর্কতা বা ‘অ্যালার্ট-১’ জারি করে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ৪ নম্বর সংকেত জারি করলে বন্দর ‘অ্যালার্ট-২’ জারি করে। বিপৎসংকেত ৫, ৬ ও ৭ নম্বরের জন্য বন্দরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘অ্যালার্ট-৩’ জারি করা হয়। মহাবিপৎসংকেত ৮, ৯ ও ১০ হলে বন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘অ্যালার্ট-৪’ জারি করা হয়। এ দুই ধরনের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি হলে বন্দর-জেটিতে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে পণ্য খালাসও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সেই অনুযায়ী আবহাওয়া অধিদপ্তর ৭ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারির পর মঙ্গলবার সকালে নিজস্ব এলার্ট ৩ জারি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরপরই বন্দরের মেরিন ডিপার্টমেন্ট কোস্টগার্ড, নৌপুলিশের সহায়তায় বন্দর চ্যানেল ও জেটি থেকে ছোট বড় সব জাহাজ বহির্নোঙরে কিংবা শাহ আমানত সেতুর পূর্বপাশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পন্য হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন (কিউজিসি), রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) সহ সব কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট পর্যায়ক্রমে প্যাকিং করা হচ্ছে।