আলমগীর হোসেন, জামালপুর
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:৩০ পিএম
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:৫৩ পিএম
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। প্রায় সাত মাস আগে নতুন ঘর দেওয়ার আশ্বাসে তার পুরোনো ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু গত সাত মাসে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নির্মাণাধীন তার বীর নিবাসের ভিটায় ইটের গাঁথুনির পর উধাও হয়ে যান ঠিকাদার। এই সাত মাস পরিবার নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। এ অবস্থা কবে শেষ হবে তা-ও কেউ বলতে পারছে না।
জানা গেছে, বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হলেও শেষ হয়নি জামালপুর সদর উপজেলার বীর নিবাসগুলোর নির্মাণকাজ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ৮৬টি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। এখন ঘর না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। এ ছাড়া বীর নিবাসের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের আগস্টে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১১টি প্যাকেজের মাধ্যমে ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৮৬টি বীর নিবাস নির্মাণের কাজ শুরু করে। তিনটি কক্ষ, দুইটি বাথরুম ও একটি রান্নাঘরবিশিষ্ট প্রতিটি একতলা বাড়ির জন্য বরাদ্দ ছিল ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। ৭৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এসব বীর নিবাসের কাজ শুরু হয় গত বছরের ২৪ আগস্ট। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি এসব ঘরের কাজ।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘সাত মাস আগে আমার বাড়ির কাজ শুরু হয়। কিন্তু ইটের গাঁথুনি দেওয়ার পর উধাও হয়ে যায় ঠিকাদার। এরপর সেই ঠিকাদার আর খোঁজখবর নেয়নি। এখন আমার সেই ভিটা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। ঘর-দরজা ভাঙার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকছি। কবে ঘর হবে তা-ও কেউ বলতে পারছে না।’
মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের ছেলের বউ রুমা আক্তার জানান, তার শ্বশুরের নামে একটি ঘর বরাদ্দ আসে। ছয় মাস আগে ঘরের কাজ শুরু হয়। পাঁচ দিন কাজ করে এক সপ্তাহ পরে আবার কাজ করা হবে বলে ঠিকাদার চলে যান। ওই ঘরের জায়গা এখন ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে, তারপরও তাদের কোনো খোঁজখবর নাই। অনেক চেষ্টা করেও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ আলীর স্ত্রী আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ‘আমাদের ঘরের কাজ অনেক খারাপভাবে করা হচ্ছে। তারা (ঠিকাদার) তাদের মতো কাজ করে যাচ্ছে। বাধা দিলেও তারা মানে না। দুই-তিন নম্বর ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সিমেন্ট কম দিয়ে বালু বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।’
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সুজাত আলী বলেন, যেসব ঠিকাদার মুক্তিযোদ্ধাদের বীর নিবাসের কাজ নিয়ে নয়ছয় করছেন, তাদের মধ্যে কোনো ধরনের দেশপ্রেম নাই।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আশিক এলাহী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের নামে আটটি ঘরের কাজ পেয়েছি। চারটি ঘরের কাজ প্রায় শেষ, আর বাকি চারটির কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ করতে অনেক লোকসানে পড়তে হচ্ছে। যে দামে কাজ নেওয়া হয়েছিল বর্তমান বাজারে জিনিসপত্রের দাম তার চেয়ে অনেক বেশি। তাই ঠিকাদাররা সমস্যায় পড়ে গেছে।’
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটুস লরেন্স চিরান বলেন, ঠিকাদারদের চূড়ান্তভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ শুরু করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব কাজ শেষ করার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।