টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ১২:৫১ পিএম
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:০৫ পিএম
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দুপাশে নেই সংযোগ সড়ক। প্রবা ফটো
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। যার দুপাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। নেই কোনো বসতিও। এ ছাড়া সেতুটির প্রায় ১০০ ফুট দূরে রয়েছে রেললাইন। ফলে সেতুটি মানুষের কোনো কাজেই আসছে না। এ নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের মোহাইল গ্রামের গরিল্ল্যা বিলের মাঝে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব-জামালপুর রেললাইনের পাশে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোহাইল গ্রামের গরিল্ল্যা বিলের খালের ওপর যে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে, তার এক পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। অপর পাশে সেতুতে ওঠার জন্য কিছু মাটি ফেলা আছে। দুপাশে বিল। বিল থেকে ১০০ ফুট দূরে জামালপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেললাইন। অথচ সেতুর আশপাশে কোনো বসতি নেই।
মোহাইল গ্রামের ফারুক মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এ সেতুটি আমাদের কোনো কাছে আসছে না। এদিকে কোনো মানুষের যাতায়াতও নেই। সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে খালের ওপর অযথা সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।
ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, গরিল্ল্যা বিলে যে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে তার আশপাশে কোনো বসতি নেই। সেতুটির কোনো সংযোগ সড়কও নেই। এই সেতুটি আমাদের কোনো কাজেই আসছে না। সরকারের লাখ লাখ টাকা নষ্ট করেছে স্থানীয় উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। যেখানে সেতু করলে মানুষের কাজে আসবে সে জায়গাতে সেতু নির্মাণ করার দাবি জানাচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজশিক্ষক বলেন, ব্যক্তির পকেট ভারী করার জন্য এই সেতু। সরকারের লাখ লাখ টাকা নষ্ট করা হচ্ছে। যেখানে সেতু করলে মানুষের জন্য উপকার হবে সেখানে সেতু করা হোক।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল মাসুম বলেন, এক মাস আগে সেতুটি পরিদর্শন করেছি। বন্যার কারণে কয়েক মাস ধরে সংযোগ সড়ক তলিয়ে গেছে। আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে শুকনো মৌসুমে অতি দ্রুতই সংযোগ সড়ক মেরামত করে মানুষের যাতায়াতের জন্য উপযোগী করে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে গোপালপুর উপজেলা পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, সেতুটি আমি দেখেছি। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সেতুটি কী কারণে করেছে বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ ব্যাপারে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসফিয়া সিরাত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, সেতুটির দুপাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকলে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।