নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৩ ২০:৫৩ পিএম
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৩ ২১:২৮ পিএম
নয়াপল্টনে বিএনপির একটি সমাবেশে নেতাকর্মীরা। ফাইল ফটো
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির এক দফা আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলার শিকার হচ্ছেন তারা। আর এসব মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন।
তিনি বলেন, ‘১৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এরপর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’
নেতাকর্মীরা জানান, ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। ওই সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সমাবেশে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার দাবিতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিকে বিএনপির সমাবেশের দিন আওয়ামী লীগও ঢাকায় সমাবেশ করবে। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় দলটির নেতাকর্মীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি কোনো অরাজকতা সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না।
আগের সমাবেশের আগে গ্রেপ্তার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হুঁশিয়ারির পর ফের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। অধিকাংশ নেতাকর্মী বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আতঙ্কে রয়েছে তাদের পরিবারের অন্য সদস্যরাও। এমনকি ফোনও বন্ধ রেখেছেন অনেক নেতাকর্মী।
জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্রঘোষিত যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ’শত শত মামলা, গ্রেপ্তারের পরও রাজপথমুখী রয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। আমরা এসব মামলা, গ্রেপ্তারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। এখন আর আমরা ভয় পাই না। যতই বাধা আসুক, কর্মসূচি সফল করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই এখন এসব নিয়ে চিন্তা করছি না। চলমান আন্দোলন-সংগ্রাম যেকোনো মূল্যে সচল রাখা হবে।’
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ’নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে একাধিক মামলা করেছে। সবগুলোই গায়েবি মামলা। নেতাকর্মীরা যেন ঢাকার সমাবেশে অংশ নিতে না পারেন, এজন্য বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। পুলিশি হয়রানি ও বাধা উপেক্ষা করে অনেক নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেবেন।’
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ’বিএনপির কর্মসূচির সময় প্রত্যেকবার নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ও গ্রেপ্তার অভিযান চলে। এটা পুলিশের নিয়মিত কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এভাবে অন্যায়ভাবে আটক-গ্রেপ্তার করা গণতন্ত্রের মধ্যে পড়ে না।’