রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৩ ২৩:২৩ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সড়কের দুই পাশের প্রায় ১০ লাখ টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউপি সদস্যসহ পরিষদ কর্তৃপক্ষ তাদের কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে যোগসাজশে কম মূল্যে এসব গাছ বিক্রি করে। ফলে সরকার প্রকৃত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ৬৬টি গাছের মধ্যে এ পর্যন্ত ২০টি গাছ কাটা হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের আলী হোসেন স্কুল মোড় থেকে সদর উপজেলার দিকে ৫০০ মিটার কাঁচা সড়কে এনজিও প্রশিকার তত্ত্বাবধানে গ্রাম সমিতির গাছ লাগানো হয়। সম্প্রতি সড়কটি সম্প্রসারণ করে পাকাকরণের কাজ হাতে নেয় এলজিইডি। ৫ অক্টোবর ওই সড়কের গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। এতে ৬৬টি গাছ মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। অনুমতির পর ১৮ অক্টোবর থেকে গাছ কাটা শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২০টি গাছ কাটা হয়েছে।
দক্ষিণ চরবংশীর গাছ ব্যবসায়ী ও করাতকল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ৬৬টি গাছের বেশিরভাগই রেইনট্রি ও মেহগনি। এর মধ্যে বেশিরভাগই পরিপক্ব গাছ। এগুলোর মূল্য ১০ লাখ টাকার মতো। কিন্তু গোপনে ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবুল হোসেনসহ ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘এই সড়কের বেশিরভাগ গাছের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছর। টাকা লুটপাটের জন্যই গোপনে এত কম দামে গাছগুলো বিক্রি করেছে। কবে টেন্ডার হলোÑ এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। প্রকাশ্যে টেন্ডার দিলে গাছগুলো ১০ লাখ টাকার মতো বিক্রি করা যেত।’
সৈয়দ আহাম্মদ নামে আরেকজন বলেন, ‘এই সড়ক ধরে জেলা শহরে যাতায়াত করছি। প্রতিটি গাছের মূল্য ৩০-৪০ হাজার টাকা হবে। শুনেছি মাত্র ৩ হাজার টাকা করে ৬৬টি গাছ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।’
প্রশিকার গ্রাম সমিতির কোষাধ্যক্ষ আলী আজগর বলেন, ‘ইউএনও স্যারের অনুমতি নিয়েই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৪৫টি গাছ বিক্রি হয়। তবে আমাদের সমিতির জন্য ৭০ শতাংশ টাকা পরে দেবে বলে সময় নিয়েছে পরিষদ।’
জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করেছি। সকল কাগজপত্র ইউনিয়ন অফিস ও ইউএনও অফিসে জমা আছে।’ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজি বলেন, ‘সকলকে সঙ্গে নিয়ে ওপেন টেন্ডার করেছি। আমাদের কাছে সব কাগজপত্র আছে। গাছ ৬৬টি নয়, গাছ হলো ৫০টি।’
এলজিইডির রায়পুর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সুমন মুন্সি বলেন, ‘কম মূল্যে গাছ বিক্রির অভিযোগের বিষয়টি জানা নেই। তবে ওই ইউনিয়নের আখনবাজার থেকে দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণের কাজ চলছে। সঙ্গে ৬০০ মিটার কাঁচা সড়কের কাজও করা হবে।’