মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ২২:০২ পিএম
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি দপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা মহিবুল ইসলাম দাপ্তরিক নোটিস ছাড়াই নিরুদ্দেশ রয়েছেন বলে জানা গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে অফিসের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। ফলে বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ হাজার আমনচাষি বালাই ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে ১১ হাজার বিঘা জমিতে ৫ হাজার টন আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন কৃষকের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহিবুল ইসলাম ২০২১ সালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে মোরেলগঞ্জে যোগদান করেন। ওই সময় তাকে বহরবুনিয়া ইউনিয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিছুদিন পরেই তিনি কাঁঠালতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর শেখ ও পঞ্চকরণ গ্রামের দেলোয়ার শেখসহ কয়েকজন কৃষককে কৃষি যন্ত্রপাতি, সার ও কীটনাশকের পরিবেশক পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে সম্প্রতি তারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের তদন্ত শুরু হওয়ার পরেই মহিবুল ইসলাম গা ঢাকা দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মহিবুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী বলেন, ‘এখানে যোগদানের পর থেকেই মহিবুল ইসলাম দায়িত্বে অবহেলা করছিলেন। তিনি নিয়মিত কর্ম এলাকায় যান না। কৃষকদের খোঁজ রাখেন না। কয়েকজন কৃষকের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে লিখিতভাবে (নোটিস) জানতে চাওয়া হয়েছে। জবাব না দিয়ে গত ছয় দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিতভাবে জানানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’