× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ত্রিশালের ২৫ কিলোমিটার মহাসড়কে এক বছরে ঝরেছে ৭০ জনের প্রাণ

হুমায়ুন কবীর, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:৫৭ পিএম

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালের দরিরামপুরের একটি অংশে ডিভাইডার কেটে পারাপারের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। প্রবা ফটো

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালের দরিরামপুরের একটি অংশে ডিভাইডার কেটে পারাপারের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। প্রবা ফটো

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল অংশের ২৫ কিলোমিটার মহাসড়কে গত এক বছরে ১৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭০ জন। আহত হয়েছে ১৮২ জন। ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এ তথ্য জানিয়েছে। 

বাহিনীটির স্টেশন অফিসার সাদিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল অংশ একটি মৃত্যুফাঁদ। এখানে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। অবৈধ ইউটার্ন, মহাসড়কে অবৈধ বালুর ব্যবসা, অবৈধ গাড়ী পার্কিং, ফিটনেসবিহীন গাড়ী এবং লাইসেন্সবিহীন চালকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ীতে বেপরোয়া গাড়ীর ধাক্কাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। আমরা সচেতন হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমে আসবে।

স্থানীয়রা জানান, ২৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে সবচেয়ে বেশী দুর্ঘটনা ঘটে চেলেরঘাট, সাইনবোর্ড, বগার বাজার, নুরুর দোকান ও বড় পুকুরপাড় এলাকায়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ছোট-বড় ৪৫টি ডিভাইডার ছিল; যা কেটে ফেলা হয়েছে। ডিভাইডারগুলো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রিকসা, ভ্যান, সিএনজি, মটরসাইকেলসহ ছোট, বড় যানবাহন পারাপার হচ্ছে। সড়কের পাশে অবৈধভাবে বালু রেখে অনেকেই ব্যবসা করছেন। দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ ট্রাক, লেগুনা, সিএনজি স্টেশন। সাররাত গাড়ীগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। এ থেকে একদিকে যেমন যানজটের সৃষ্টি হয় অন্যদিকে ঘটে দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এসব স্টেশনগুলো বন্ধ করলেও পরক্ষণেই গাড়ী জড়ো হয়।

উপজেলা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের সাবেক সভাপতি ইমরান হাসান বুলবুল বলেন, যতো দিন যাচ্ছে মহাসড়ক আরও ব্যস্ত হয়ে অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে। এ সড়কে প্রতিদিন কয়েকশত লক্কর-ঝক্কর বাস চলছে। অনেক বাসের রোড পারমিট বা ফিটনেস নেই। পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয়দের যোগসাজসে এসব গাড়ী চলছে। সড়কের পাশে অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা, গাড়ী পার্কিং করার ফলেও দুর্ঘটনা ঘটছে।

ময়মনসিংহ জন উদ্যোগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, নিরপেক্ষ ও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। ফিটনেসবিহিন গাড়ী দেখার জন্য ট্রাফিক বিভাগ আছে। তাদের দায়িত্ব আছে। পরিবহন সেক্টরে যারা আছেন তাদেরও দায়িত্ব আছে। পাশাপাশি যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। তাহলেই সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে।

ত্রিশাল উপজেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম শামছুদ্দিন বলেন, ফ্যাক্টরিতে যাতায়াত করা পরিবহনগুলো মালিক সমিতির আওতাধীন নয়। তারা কোথা থেকে অনুমতি নিয়ে ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর বাস মহাসড়কে চালাচ্ছে আমরা জানি না। আমরাও চাই সড়কে নিরাপদে চলতে। গাড়ীর ফিটনেস আছে কিনা, চালকের লাইসেন্স আছে কিনা তা নিশ্চিত করে আইনের প্রয়োগ করা হলে দুর্ঘটনা কমে আসবে।

বিআরটিএ ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক ইঞ্জি. এ.এস.এম ওয়াজেদ হোসেন বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দুর্ঘটনা অসাবধানতার কারণে ঘটে থাকে। সড়কের অবস্থা ভালো। আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। পাশাপশি মামলাও দিচ্ছি।

ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপদের (সওজে) নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, মহাসড়কে যেসব স্থানে ডিভাইডার কাটা হয়েছে তা আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্ধের ব্যবস্থা করছি। এগুলো আগেও বন্ধ করা হয়েছিল। অসাধু একটি চক্র ফের ডিভাইডারগুলো কেটে ফেলেছে। 

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, হাইওয়েতে আমাদের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কাজ করেন। যাদের গাড়ীর কাগজপত্র, লাইসেন্স নেই তাদের বিরুদ্ধে সবসময় প্রসিকিউশান দাখিল করছি। সড়কে বালুবাহী ট্রাকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছি। মহাসড়কে মানুষ কৃত্রিমভাবে ডিভাইডার তৈরি করছে। সেগুলোর বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা রোডস এন্ড হাইওয়ের সাথে কথা বলেছি। যে ডিভাইডারগুলো কাটা হয়েছে তা বন্ধ করে দিচ্ছি। প্রবলেম হচ্ছে এখানে যে পরিমান জনগণের বসবাস সে তুলনায় আমাদের  ট্রাফিক ব্যবস্থা অপ্রতুল। আমাদের যে জনবল আছে এটা দিয়েই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা