নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ১২:০২ পিএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ১২:৩০ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন একটি বীরনিবাসে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রবা ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন একটি বীরনিবাসে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এরই মধ্যে ওই বীর নিবাসের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সরেজমিনে যাচ্ছেন ‘অনিয়ম’ স্বচক্ষে দেখতে। পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তারা।
এদিকে ‘ভালো মানের’ ইট বালু দিয়ে মজবুত করে বিল্ডিং (বীরনিবাস) করে দেওয়ার কথা বলে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে দুই দফায় ৫১ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার।
জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের চিত্রি গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার পেশকার মিয়ার পরিবারকে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বীরনিবাসে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। মাস দেড়েক আগে এই বীরনিবাসের নির্মাণ কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। কিন্তু সরকারি চুক্তি অনুযায়ী মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না এখানে। ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট, বালুসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী।
এ বিষয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পিআইও অফিস গত ৫ অক্টোবর নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। সেই থেকে ১২ দিন হলো নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন, তদারকি ও দেখভালের দায়িত্ব পাওয়া উপজেলা পিআইও অফিস সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে বর্তমানে নবীনগর উপজেলায় ১৩১টি বীরনিবাস নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে দুটি প্যাকেজে ১ কোটি ৪০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে পাঁচটি করে মোট ১০টি ঘর নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোনিয়া এন্টারপ্রাইজ। এর মধ্যে রয়েছে চিত্রি গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার পেশকার মিয়ার পরিবারের ঘরটিও।
গতকাল সোমবার সরেজমিন প্রয়াত ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করেন ঘর তৈরিতে নিম্নমানের ইট, বালুসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। ভালো ইট দেওয়ার কথা বলে দুই দফায় টাকা নিলেও ঠিকাদার তা করেননি।
প্রয়াত সুবেদার পেশকার মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঠিকাদার বিল্ডিংডা করতে উন্নত মানের ইট বালু কিনার কথা কইয়া কিছু দিন আগে আমার কাছ থাইক্যা দুই বারে মোট ৫১ হাজার টাকা নিছে। কিন্তু এরপরও এই ব্যাডা (ঠিকাদার) বিল্ডিংডার মধ্যে খুব বাজে কাম করায়, বিল্ডিংয়ের ইট ধরলেই খুইল্যা যায়।’
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল লতিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বীরনিবাসের জন্য সরকার কোটি কোটি টেহা দিতাছে। তাইলে ঠিকাদার নগদ ৫১ হাজার টেহা মুক্তিযোদ্ধার বউয়ের কাছ থাইক্যা নিব ক্যান, কন? এরপরও কাম হইতাছে খুবই খারাপ। তাই আমরা এর প্রতিকার চাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনিয়া এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার ঠিকাদার লিয়াকত আলী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘রাজমিস্ত্রিরা কাজ করার সময় কিছুটা ত্রুটি ধরা পড়ায় পিআইও অফিস থেকে লোক গিয়ে কিছু দিন আগে কাজটি বন্ধ করে দেয়। তবে আমি কথা দিচ্ছি, কার্যাদেশের শিডিউল অনুযায়ীই ভালো করে এই বিল্ডিংয়ের পুরো কাজটা শেষ করব।’
তবে ভালো মানের ইট বালু দেওয়ার কথা বলে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিম্নমানের নির্মাণ কাজের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত ৫ অক্টোবর থেকে ওই বীরনিবাসের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) ইউএনও স্যারসহ আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর ফরহাদ শামীম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সরেজমিন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সব দেখে শুনে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যব্যস্থা নেওয়া হবে।’
ঠিকাদারের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে এ দুই কর্মকর্তা বলেন, সরেজমিন সবার সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।