ভোলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ০৯:২৩ এএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:১০ পিএম
মনোবল আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে জীবনে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না- এমনটাই প্রমাণ করলেন ভোলার রিনা আক্তার।ট্রান্সজেন্ডার হয়েও কারও কাছে হাত না পেতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন তিনি।বাংলাদেশের সর্বশেষ গ্ৰাম চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি-মুকরির প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাহসের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন জীবনযুদ্ধ।
সাগর লাগোয়া গ্ৰামটিতে অধিকাংশ মানুষের জীবন চলে কৃষি আর জেলের কাজ করে।উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ঘেরা গ্রামটির তিনদিক শান্ত নদী আর একপাশে উত্তাল সমুদ্র। সেই গ্ৰামে হতদরিদ্র পরিবারের বেড়ে ওঠা ট্রান্সজেন্ডার রিনা আক্তারের। নিজের পরিশ্রম আর কর্মের মাধ্যমে একটি নৌকাকে পুঁজি করে পাল্টে দিয়েছেন জীবন।
রিনা আক্তার জানান, জন্মের দুই বছর পর বাবা নিখোঁজ হওয়ায় তার মা পারুল বেগম দুই সন্তান নিয়ে বিপদে পড়েন। সংসারের হাল ধরতে বেছে নেন মাছ ধরা পেশা। নারী হয়ে মাছ ধরা পেশা বেছে নেওয়ায় নানা সমালোচনার সম্মুখীন হন গ্ৰামীণ সমাজে। ছোট দুই সন্তান নিয়ে ভালোই চলছিল পারুল বেগমের। কিন্তু রিনার বয়স যখন চার বছর তখন রিনা ট্রান্সজেন্ডার বলে জানান চিকিৎসক। কিছুটা ধাক্কা খেলেও থেমে থাকেনি তাদের জীবন। মায়ের সঙ্গে মাছ ধরতে যেতেন প্রতিদিন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মা। এতে ছোট বোনের দায়িত্ব রিনার কাঁধে এসে পড়ে।
তিনি আরও জানান, ২০২০ সালে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে রিনাকে একটি পর্যটনবান্ধব রঙিন নৌকা দেওয়া হয়। সেই নৌকা দিয়ে নতুন করে শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। তার নৌকায় কুকরি-মুকরি আসা পর্যটকরা ঘুরে দেখেন নারিকেল বাগানসহ বনের মধ্যে বয়ে চলা খালের দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পর্যটকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ভালোই আয় হয় রিনার। আর অন্য সময়ে ওই নৌকা দিয়েই মাছ ধরে সংসার চালান রিনা আক্তার।
চর কুকরি-চর মুকরি বাজারের চায়ের দোকানদার সবুর আলী, অটোরিকশাচালক মনির হোসেন ও কৃষক আব্দুল কাদের জানান, কর্মজীবনে অদম্য রিনা আক্তার সংসার জীবনে ভিন্ন এক মানুষ। ট্রান্সজেন্ডার হলেও সংসার জীবনে রিনার ভূমিকা মেয়েদের মতোই। ঘরের রান্না থেকে শুরু করে সবকিছুই সামাল দেন তিনি। অন্যদের মতো কারও কাছে হাত পাততে হয় না
চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম মহাজন বলেন, রিনার ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি অন্য হিজড়াদের কাছে অনুকরণীয়। যাতে করে অন্য হিজড়ারাও উদ্বুদ্ধ হতে পারে। তবে এটা শুধু হিজরাদের দায়িত্ব নয়, সমাজের সবাই তাদের স্বাভাবিকভাবে গ্ৰহণ করতে পারলে এরা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।