দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৩ ২২:১৫ পিএম
দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা । প্রবা ফটো
দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় বিভিন্ন দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল করেছে বসতবাড়ি রক্ষা কমিটি নামে একটি সংগঠন। রবিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বড়পুকুরিয়া নতুন বাজারসংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে খনিসংলগ্ন বৈদ্যনাথপুর আংশিক, শিবকৃষ্ণপুর, মথুরাপুর, বাঁশপুকুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি নুর মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, সহসভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোনতসির সাগর, মো. আকতারুজ্জামান প্রমুখ।
বক্তরা বলেন, খনিসংলগ্ন বৈদ্যনাথপুর আংশিক, শিবকৃষ্ণপুর, মথুরাপুর, বাঁশপুকুর গ্রামে এক হাজারের অধিক পরিবারে পাঁচ হাজার মানুষের বাস। গভীর রাতে কয়লাখনির মাইন বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ও ভূকম্পনে এসব গ্রামের বাড়িঘরে প্রায়ই ফাটল দেখা দিচ্ছে। অনেক বাড়িঘর বসবাসের অযোগ্য পড়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক সময় বাড়ির বাইরে অবস্থান নিতে হয়। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে বসবাস করছি। বিষয়গুলো একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারা বলেছে টিম গঠন করেছে, তদন্তে যাবে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো টিম আসেনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে।
বক্তরা আরও বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপে ঠিকমতো পানি উঠছে না। এতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর জমি অধিগ্রহণ ও বাড়িঘর ফাটলের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের খনিতে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের একটি টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি টিমও কাজ করেছে। কিছুদিনের মধ্যেই বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব হবে।’