× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দালালদের দৌরাত্ম্যে সর্বস্বান্ত রোগীরা

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৩ ১৫:০৩ পিএম

কিশোরগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ওষুধ কেনার ভিড়। প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ওষুধ কেনার ভিড়। প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জের জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় গত চার মাসে কমপক্ষে ৬০টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। জেলা শহরের বটতলা মোড় থেকে মাত্র এক কিলোমিটার বর্গফুট এলাকায় কমপক্ষে ৫০টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। আর সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে পুরো জেলায় রয়েছে ৫৫০টি। এসবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দালাল চক্র। দালালদের দৌরাত্ম্যে সর্বস্বান্ত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের রোগীরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এই সময়ে (আশ্বিন-কার্তিক) মাসে গ্রামের প্রান্তিক মানুষদের উন্নত চিকিৎসা সেবার নামে দালালদের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। পল্লী চিকিৎসক, বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত একশ্রেণির কর্মচারী নিজেদের মার্কেটিং অফিসার পরিচয় দিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে রোগীদের আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসে। পরে এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালের কতিপয় অসাধু চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকিয়ে দিয়ে চিকিৎসার নামে অযথা প্যাথলজি পরীক্ষা দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। একই কায়দায় গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ও মার্কেটিং অফিসাররা শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে অপারেশনসহ বিভিন্ন প্যাথলজি পরীক্ষা করে কমিশন বাবদ ৫০ শতাংশ নিয়ে থাকেন। ফলে গ্রামের অতি দরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত রোগীরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। অনেকেই গরু-বাছুর বিক্রি করে চিকিৎসার টাকা জোগান দিয়ে থাকেন। 

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারা জেলায় প্রতি মাসে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে শুধুমাত্র প্রসূতি রোগীদের ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার সিজার অপারেশন করা হয়। তাদের অধিকাংশ গ্রামের তৃণমূলের দরিদ্র পরিবারের। প্রতিটি সিজার অপারেশনে ক্লিনিকগুলো গড়ে ১২ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। আর একটু সচ্ছল পরিবারের কাছ থেকে নানা কৌশল, সুবিধা ও এসি কেবিনের কথা বলে ২০-২৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। এখান থেকেও দালালরা ৩-৪ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। কোনো কোনো ক্লিনিকে কম দামের ওষুধ ব্যবহার করে সিজার হলেও দালালদের কমিশন ঠিকেই গুনতে হয়। পাশাপাশি কমদামের ওষুধ ব্যবহারের ফলে অনেকের ইনফেকশন হয়ে যায়। এতে রোগীর কষ্ট ও খরচ আরও বেড়ে যায়। সাধারণত কমিশনের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। কোনো কারণে কমিশন কম দেওয়া হলে পরবর্তীতে সেই ক্লিনিকে রোগী নিয়ে আসেন না। এইভাবে তারা ক্লিনিক ও হাসপাতালের মালিকদের জিম্মি করে নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে সাড়ে ৫৫০ হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। জেলা শহরের বড় বড় কয়েকটি ছাড়া বাকি ক্লিনিকগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি নেই। সিভিল সার্জনের অফিস থেকে পরিদর্শনের সময় তারা কাগজপত্র ঠিকঠাক করে পরিদর্শন কাজ কোনোভাবে সমাধা করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

গত শুক্রবার শহরের দুটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা গেছে, শতাধিক রোগীর পেছনে কোনো না কোনো দালাল কিংবা পল্লী চিকিৎসক জড়িত থেকে তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছেন। সদর উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকা থেকে মহরম মিয়া নামে এক দালাল গ্রামের দরিদ্র রোগী নিয়ে আসেন শহরের একটি ক্লিনিকে। প্যাথলজি পরীক্ষার নামে তাকে ১ হাজার ৫৮০ টাকার পরীক্ষা দেওয়া হয়। কমিশন বাবদ সে ৭৮০ টাকা নেন। তার মতো সবাই এভাবে কমিশন নিচ্ছেন। অপারেশন বাবদ রোগী আনা চিকিৎসক ও দালালরা দুই-তিন হাজার টাকা কমিশন নিচ্ছেন । 

সচেতন নাগরিক কমিটির সহসভাপতি স্বপন কুমার বর্মন বলেন, ‘গ্রামে-গঞ্জে কাজ করতে গিয়ে জানতে পেরেছি, দালাল ও পল্লী চিকৎসকদের কাছে রোগীরা জিম্মি। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একশ্রেণির অসাধু চিকিৎসক ও দালাল মিলে দরিদ্র রোগীদের সর্বস্বান্ত করছে।

একাধিক ক্লিনিক ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে আসা দালালরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সারা বিশ্বে দালালি একটি স্বীকৃত পেশা। যাকে কমিশন ব্যবসা বলা হয়। আমরা রোগী এনে কমিশন নেই এ কথা সত্য। কিন্তু আমাদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয় তা ঠিক নয়। 

চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) জেলা সভাপতি মাহবুব ইকবাল বলেন, ‘কয়েকজন অসৎ চিকিৎসক সারা দেশের চিকিৎসকদের দুর্নাম করছে। দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ অসাধু চিকিৎসকদের এই অনিয়ম চলে আসছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা বৃহস্পতিবার রাতেই কিশোরগঞ্জে ছুটে আসেন। টাকা কামাই করে আবার শুক্রবার রাতেই কর্মস্থলে ফিরে যান। এসব অসৎ চিকিৎসকের বিষয়ে রোগীদের সচেতন হতে হবে। কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক নিয়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহে মনিটরিং করছি। তারপরও অসৎ চিকিৎসকদের অপতৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মানসিকতা পরিবর্তন করা না গেলে অবস্থার উন্নতি হবে না। অনিয়ম-দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে অভিযোগে সত্যতা পেয়ে কয়েকটি হাসপাতাল ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা