ভোলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৩ ০৯:৩০ এএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৩ ০০:১৯ এএম
ভ্যানগাড়ির চাকা দিয়ে নিজের বানানো হুইলচেয়ারে বসা বৃদ্ধ আবুল কালাম। প্রবা ফটো
দিনমজুরির শ্রমিক ছিলেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গাছ কেটে সংসার চালাতেন ষাটোর্ধ্ব আবুল কালাম। পাঁচ বছর আগে গাছ কাটতে গিয়ে অসাবধানতায় ডান পায়ে কুড়ালের আঘাত লাগে। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর শুরু হয় চিকিৎসা। এজন্য ১০ শতাংশ জমিও বিক্রি করেছেন। তবু রক্ষা পা করতে পারেননি বৃদ্ধ আবুল কালাম। দুই বছর আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। যার ফলে তিনি এখন পঙ্গু।
এরপর থেকেই শুরু হয় অসহায় আবুল কালামের জীবনযুদ্ধ। চলাফেরার জন্য নিজে ভ্যানগাড়ি ভেঙে তিনটি চাকা ও লোহা দিয়ে তৈরি করেন একটি হুইলচেয়ার। যার প্যাডেল হাতের কাছে। এখন সেই প্যাডেল চেপে বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করেন। এ ছাড়া নিজের বাড়ি ও আশপাশে চলাচল করেন ক্রাচে ভর করে।
আবুল কালাম ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরছকিনা গ্ৰামের বাসিন্দা। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে তার। সুস্থ থাকাবস্থায় মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা বিয়ে করে থাকছেন অন্যত্র। এখন সংসারে স্ত্রীকে নিয়ে দিন পার করছেন আবুল কালাম। বেঁচে থাকার তাগিদে নিজের তৈরি হুইলচেয়ারে ছোটেন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। মানুষের কাছে হাত পাতেন। যা পান তা দিয়ে কোনোমতে স্বামী-স্ত্রী দিন চলে।
আবুল কালাম বলেন, ‘সুস্থ থাকতে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গাছ কাটার কাজ করতাম। সে সময় যা টাকা দিনমজুরি হিসেবে পেতাম, তা দিয়ে ভালোভাবেই চলছিল সংসার। তবে পাঁচ বছর আগে গাছ কাটার সময় হঠাৎ করে কুড়াল এসে পায়ে লাগে। এরপর বিভিন্ন স্থানে পায়ের চিকিৎসা করিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত দুই বছর আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে হাঁটুর নিচ থেকে পা কেটে ফেলতে হয়েছে। যার জন্য সমস্যা হয় চলাফেরা করতে। তাই নিজেই ভ্যানগাড়ির তিনটি চাকা ও লোহা দিয়ে তৈরি করি একটি হুইলচেয়ার। এই হুইলচেয়ারে করে লালমোহনের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাই। প্রতিবন্ধী ভাতাও পাই। তা দিয়ে স্ত্রীসহ কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘এই শারীরিক অসুস্থতার জন্য সব সম্পত্তি প্রায় শেষ। এখন শুধু ভিটার জমিটুকু আছে। সেখানে একটি টিনশেড ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে বাস করছি। তবে সেই মাথা গোঁজার ঠাঁইটিও এখন জরাজীর্ণ। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো ঘরে পানি পড়ে। ভিজে যায় বিছানাপত্র। বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পেতে ঘরের টিনের চালের ওপর প্লাস্টিকের ত্রিপল দিয়ে ছাউনি দিয়েছি। তাতেও কমছে না পানি পড়া। নিজের শারীরিক অসুস্থতায় সব সম্বল হারিয়ে এখন ঘরটিও মেরামত করতে পারছি না।’
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনামিকা নজরুল জানান, যাদের জমি ও ঘর নেই তাদেরকেই সরকারিভাবে জমিসহ ঘর দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু আবুল কালামের নিজের জমি আছে তাই তাকে ঘর প্রদান করা যাবে না। তবে তিনি সরকারিভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। সামনে কোনো সুযোগ-সুবিধা এলে অবশ্যই তাকে দেওয়ার চেষ্টা করার আশ্বাস দেন তিনি।