রেজাউল করিম, গাজীপুর
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:২৯ পিএম
গাজীপুর মহানগরীর লাগালিয়া এলাকার মুরগির খামারের বিষ্ঠা তেখে তৈরি হচ্ছে বায়োগ্যাস। প্রবা ফটো
গাজীপুর মহানগরীর লাগালিয়া এলাকার ‘সোহাগ পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিড’ নামের মুরগির খামার করেছেন তোফাজ্জল হোসেন লিটন। খামারের মুরগির বিষ্ঠা থেকে বায়োগ্যাস তৈরি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বিষ্ঠার গন্ধ থেকে মুক্তি মিলেছে, অন্যদিকে আশপাশের মানুষজনের জ্বালানির জোগান দিতে পারছেন। এ ছাড়া জৈব সারেরও জোগান দিচ্ছেন এ খামার থেকেই।
তোফাজ্জল হোসেন লিটন বলেন, ‘বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট’-এ বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক মোজাম্মেল হকের পরামর্শে ২০০০ সালে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করেন। বর্তমানে তার দুটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট রয়েছে। একটিতে ১০০০ ঘনমিটার, অন্যটিতে ৪০০ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদন হয়। এ ছাড়া অন্য আরও একটি করে পোল্ট্রি ফার্ম ও ডেইরি রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, দুটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে উৎপাদিত গ্যাস খামারে কর্মরত শ্রমিকদের পরিবার রান্নার জন্য ব্যবহার করছে। এ ছাড়া আশপাশের কয়েক পরিবারকে বিনামূল্যে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। প্ল্যান্ট থেকে অর্ধশতাধিক পরিবারে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে জানান লিটন।
লিটন বলেন, ‘১৯৯২ সালে বিএসসি পাসের পর একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা শুরু করি। পরে ২০০০ সালের শুরুর দিকে মাত্র ১০০টি ব্রয়লার মুরগি নিয়ে ছোট আকারে পোল্ট্রি খামার শুরু করি। ধীরে ধীরে আয় ও খামারের পরিসর বাড়তে থাকে। পরে শুরু করি লেয়ার মুরগির খামার। লাগালিয়া ও দড়ি বলদা এলাকায় এখন তিনটি মুরগির এবং একটি ডেইরি খামার রয়েছে। এসব খামারের মুরগি ও গরুর বিষ্ঠা গ্যাস তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজাত হিসেবে জৈব সারও পাওয়া যাচ্ছে, যা শস্যক্ষেতে সার ও মাছের খাবার হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লাগালিয়া এলাকার খামারটির পাশেই ৪০০ ঘনফুট ও ১০০০ ঘনফুট বায়োগ্যাস উৎপাদন ক্ষমতার দুটি প্ল্যান্ট রয়েছে। ২০০০ সালে পোল্ট্রি খামার নির্মাণের সময় বায়োগ্যাস প্ল্যান্টও নির্মাণ করা হয়, যাতে মুরগির বিষ্ঠার গন্ধ আশপাশের বাসিন্দাদের সমস্যা না হয়। ফার্মে ৬০০০ ব্রয়লার ও ২০০০ লেয়ার মুরগি রয়েছে। এসব মুরগির বিষ্ঠা দুটি ট্যাংকে দিতে পারলে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার ঘনফুট বায়োগ্যাস উৎপাদিত হবে।
বায়োগ্যাস ব্যবহার করেন প্রতিবেশী তোতা মিয়া। তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে লিটন বায়োগ্যাস সংযোগ দেন। বিনা পয়সায় তিনি এ গ্যাস প্রদান করছেন।’ একই কথা বলেন স্থানীয় আব্দুল মালেক ও বিল্লাল হোসেনও। তারা বলেন, ‘সব সময় গ্যাসের চাপ ঠিক থাকলেও অতিরিক্ত শীত ও ভারী বৃষ্টিপাত হলে কিছুটা কমে যায়। তবে গ্যাসের হালকা গন্ধ থাকলেও সমস্যা হয় না।’
অবসরপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওকিল উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যারা খামারি রয়েছেন তারা লিটনের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট অনুসরণ করতে পারেন। এতে একদিকে যেমন পরিবেশদূষণ বন্ধ হবে, অন্যদিকে জ্বালানি ও জৈব সারের জোগান হবে।’
গ্যাস উৎপাদনের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর তিতাস গ্যাস সরবরাহ ও বিতরণ কার্যালয়ের ডিজিএম শাহজাদা ফরায়জী বলেন, ‘প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গ্যাসলাইন হতে হবে লোহার পাইপের। এ পাইপ নিতে হবে মাটির নিচ দিয়ে। এতে ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।’