অব্যবস্থাপনা
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৩ ১৭:০৯ পিএম
উদ্বোধনের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও তালা বদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে ভবনটি। প্রবা ফটো
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মৎস্য আহরণোত্তর সেবাকেন্দ্রটি উদ্বোধনের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ভবনটি নির্মাণ করা হলেও কোনো কাজেই আসছে না।
ত্রিশাল উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় প্রচুর মাছের উৎপাদন হয়। এখানে চাষিদের কাছ থেকে মাছ আহরণের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। মৎস্য চাষে এ উপজেলা সারা দেশে বিখ্যাত। মৎস্যজীবীদের সুবিধার্থে ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ প্রজেক্ট (এনএটিপি-২) কর্তৃক ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে মৎস্য আহরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।
অকশন শেড, প্যাকিং শেড, আড়তঘর, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, গভীর নলকুপ, আইস ক্রাশারসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় নির্মিত ভবনটি ২০২২ সালের জুন মাসে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনও কোনো ব্যবসায়ী এ সেবাকেন্দ্রে ব্যবসা করতে আসেননি। এ আহরণকেন্দ্রের পাশেই রয়েছে ২০-৩০টি মৎস্য আড়ত। সেখানে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকার ও ব্যবসায়ীরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী মাছ কিনে সেখানেই প্রসেসিং করে ট্রাকযোগে নিয়ে যান।
স্থানীয় কয়েকজন মৎস্য আড়তের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নবনির্মিত মৎস্য আহরণোত্তর কেন্দ্র উদ্বোধন হলেও মাছ রাখা বা প্রক্রিয়াজাত করা এখনও চালু হয়নি। কী কারণে চালু হচ্ছে না তা আমরা বলতে পারি না। যদিও নির্মিত নতুন ভবনে মাছ আহরণোত্তরে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। নতুন ভবনের পাশেই বহুদিনের পুরোনো আমাদের আড়তটি। অনেকদিন ধরে আমরা এখানে আড়তদারি ব্যবসা করছি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ বলেন, মৎস্য আহরণোত্তর কেন্দ্রটি চালুর জন্য সমিতির ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করেছি। সমিতির সদস্যদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সেবাকেন্দ্রটি চালু করতে পারিনি তাই তালাবদ্ধ রয়েছে।