× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান জোরদার

কক্সবাজার অফিস

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৩ ২২:৪৬ পিএম

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৩ ২৩:০৭ পিএম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধ রোধে যৌথ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রবা ফটো

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধ রোধে যৌথ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রবা ফটো

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারে ঘটছে রক্তপাত, বাড়ছে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও মাদকের কেনাবেচা। সোমবার (৯ অক্টোবর) ভোরে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলাদাভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে আরও দুজনকে। এ নিয়ে গত ৯ মাস ৯ দিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুনের ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬৬ জন। 

এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও মাদক রোধে জোরদার করা হয়েছে যৌথ অভিযান। এতে গত রবিবার মধ্য রাতে টেকনাফের উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ের পাশে এ অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও)’ তিন সদস্যকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করা হয়েছে।

ক্যাম্পে নিরাপত্তায় নিয়োজিত এপিবিএন বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ টহলের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি।

গতকাল ভোরে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ২ নম্বর ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লক এবং বালুখালী ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৮ ব্লকে পৃথক সন্ত্রাসীর গুলিতে দুজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।

ঘটনায় নিহতরা হলেন- উখিয়া উপজেলার বালুখালী ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-২ ব্লকের ছানা উল্লাহ এবং একই ক্যাম্পের জি-ব্লকের আহম্মদ হোসেন।

স্থানীয়দের বরাতে শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, সোমবার ভোর ৪টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ২ নম্বর ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকে মাহমুদুল হকের বসতঘরের সামনে সিঁড়ির ওপর একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত ছানাউল্লাহকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি কয়েকটি গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

সোমবার রাত ৩টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৮ ব্লকে আলী জোহারের চায়ের দোকানের সামনে অজ্ঞাত একদল দুর্বৃত্ত আহম্মদ হোসেনকে উপর্যুপরি গুলিতে খুন করে বলে জানান শেখ মোহাম্মদ আলী। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ দুই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে।

এর আগে চলতি মাসের ৪ অক্টোবর আরেকটি জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে ক্যাম্পে। উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র সংগঠন আরসা ও আরএসওর মধ্যে সংঘর্ষে এ দুজন নিহত হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সোমবার পর্যন্ত ৯ মাস ৯ দিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬৬ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, ৬৬টি খুনের মধ্যে উখিয়ার ক্যাম্পে ৫৮ জন, টেকনাফের ক্যাম্পে ৮ জন খুন হয়েছে। সোমবার ২ খুনের ঘটনা বাদ দিলে অপর ৬৪ খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৫৩টি। যার মধ্যে উখিয়ায় ৪৮টি ও টেকনাফে ৫টি মামলা লিপিবদ্ধ হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে কমপক্ষে ৭০ জন। পুলিশ গুরুত্বসহকারে মামলা তদন্ত করছে।


ক্যাম্পজুড়ে যৌথ অভিযান জোরদার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এসব অপরাধ রোধে ইতোমধ্যে যৌথ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের অংশ হিসেবে রবিবার মধ্যরাতে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরএসওর তিন সদস্যকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করেছে এপিবিএন পুলিশ।

টেকনাফের উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ের পাশে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ হাসান বারী নূর।

আটককৃতরা হলেন- ওই ক্যাম্পের মনির আহমেদের ছেলে কামাল হোসেন, আবদুর শুক্কুরের ছেলে অজিউর রহমান, তাজিমুল্লার ছেলে মুজিবুর।

উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান (এলজি) ও ১৪৬ রাউন্ড তাজা গুলি।

১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ হাসান বারী নূর জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিওিতে উনচিপ্রাং ক্যাম্পের সি/৫ ব্লকের পাহাড়ের ঢালে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ তিনজন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। আটককৃতরা স্বীকার করেছে তারা আরএসওর সদস্য।

এবিপিএনের তথ্য বলছে, চলমান অভিযানে এক মাসে হত্যা, অপহরণ, মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য মামলায় শতাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা। ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এপিবিএনের সঙ্গে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। 

৮ এপিবিএনের সহ-অধিনায়ক খন্দকার ফজলে রাব্বী বলেন, অভিযানে প্রথমে ক্যাম্প নির্ধারণ করা হয়। এরপর ওই ক্যাম্পের ব্লকগুলো যেখানে অস্ত্রধারী বা দুষ্কৃতকারীরা থাকতে পারে, সেসব ব্লক চারদিকে ঘিরে ফেলা হয়। তারপর যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১০০ এপিবিএন সদস্য, দুই প্লাটুন বিজিবি, ২৫ জন র‌্যাব সদস্য, ২৫ জন পুলিশ সদস্য ও ২৫ জন আনসার সদস্য নিয়মিত অংশ নিচ্ছে।

জামতলী ক্যাম্প ডি-২ এর বাসিন্দা হাকিম বলেন, ক্যাম্পে যে খুনাখুনি, গোলাগুলি ও সংঘর্ষ চলছে, এগুলো আমরা চায় না। ক্যাম্পে এসব অস্থিরতা বন্ধ হোক। যতদিন নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে না যাচ্ছি, ততদিন যেন ক্যাম্পে শান্তিতে বসবাস করতে পারি। এই নিরাপত্তা আমরা দাবি করছি। এর জন্য যৌথ অভিযানকে স্বাগত জানাচ্ছি।

আরেক রোহিঙ্গা আবদুর রহমান বলেন, ক্যাম্পকে নিরাপদ করতে প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুকÑ এটা আমাদের দাবি। এখন প্রশাসনের টহল ও অভিযান বেড়েছে। এতে অনেক অপরাধী পালিয়েছে। আমরা চাই, ক্যাম্পে একটু শান্তিতে বসবাস করতে। 

যৌথ অভিযানে থাকা টেকনাফের র‌্যাব-১৫ সিপিসি-১ এর স্কোয়াড্রন কমান্ডার এএসপি মাহতাব বলেন, যৌথ অভিযানের মূল উদ্দেশ্যে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ঠেকানো। যেসব তথ্য পাচ্ছি, তার ভিত্তিতে আমরা সব বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি এবং যাব। বিশেষ করে আরসাসহ অন্য সন্ত্রাসীগুলো থেকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মুক্তি ও স্বস্তি দিতে কাজ করে যাচ্ছি।

উখিয়াস্থ ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক মো. আমির জাফর বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মাঝে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই অস্থিরতা রোধ এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীরা আইনের আওতায় এলে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে স্বস্তি ফিরবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা