× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভিসার আবেদনে জাল নথি গুছিয়ে দিচ্ছে দালাল চক্র

রাজশাহী অফিস

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৩ ২১:০৪ পিএম

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৩ ২১:৫১ পিএম

মো. জমির (বামে) এবং মো. সুমন (ডানে)। প্রবা ফটো

মো. জমির (বামে) এবং মো. সুমন (ডানে)। প্রবা ফটো

ভারতীয় ভিসার আবেদনপত্রে জাল নথি দাখিলের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় ভিসা সেন্টার কর্তৃপক্ষ। আর এর পেছনে এক শ্রেণির প্রতারক চক্র কাজ করছে। তারা ভিসাপ্রত্যাশীদের অল্প সময়ে ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একদিকে যেমন অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, তেমনি ভিসাপ্রত্যাশীদের আবেদনপত্রে জাল নথি সংযুক্ত করে তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে এসব প্রতারক চক্র বা দালাল সিন্ডিকেট।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) এমনই দুজন ভিসা আবেদনকারীকে জাল নথিসহ আটক করে পুলিশে দিয়েছে রাজশাহী নগরীর বর্ণালীর মোড়ে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা সেন্টার (আইভ্যাক সেন্টার) কর্তৃপক্ষ। 

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, ঈশ্বরদী জেলার মো. সুমন ও মো. জমির। তারা ভারতের ব্যবসায়িক ভিসা পেতে তাদের ব্যবসাসংক্রান্ত জাল নথি দাখিল করেন। তবে এ ঘটনায় দালাল চক্রের মূল হোতা মো. কামাল পলাতক রয়েছেন। তার বাড়িও ঈশ্বরদী জেলায়। এদিকে এর আগে ভিসাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ও আইভ্যাক সেন্টারে গিয়ে হুমকি-ধমকির অভিযোগে গত ৬ জুলাই ভিসা দালাল চক্রের অন্যতম হোতা নুরুন্নাহারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  

স্থানীয় ভিসা সেন্টারের একটি সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, ভিসা পেতে প্রমাণস্বরূপ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্টসহ বেশ কিছু কাগজপত্র বা নথির প্রয়োজন হয়। যেমন চিকিৎসা ভিসা পেতে ভারতীয় ডাক্তার বা হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার, ব্যবসায়ী ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে তার ব্যবসার প্রমাণপত্র যেমন ট্রেড লাইসেন্স। আবেদনকারীরা ভিসা সহজে পাওয়ার জন্য দালালের আশ্রয় নিচ্ছে এবং সেই দালাল অর্থের বিনিময়ে জাল কাগজ গুছিয়ে দিচ্ছে। এতে করে ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গ্রেপ্তার সুমন ও জমির দাবি করেন, তারা কসমেটিকসের ব্যবসায়ী। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের ভারতীয় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়। ঈশ্বরদীর কামাল নামের এক দালাল ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নাম করে তাদের পাসপোর্ট নিয়ে নেয়। এরপর থেকেই তারা ঘুরছে। চট্টগ্রামেও তাদের ভিসার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তবে ভিসা না মেলায় এবার রাজশাহীতে থেকে আবেদন করা হয়। আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে, তার সবই কামাল জোগাড় করে দিয়েছে।

রাজশাহী ভিসা সেন্টারের ইনচার্জ বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ’সুমন ও জমির নামে দুজন বিজনেস ভিসার আবেদন করে। আমরা যখন তাদের কাগজপত্র তদন্ত করি, তখন তা জাল বলে প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে তাদের নিয়ে গেছে। আগেও একই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল।’

বিপ্লব কুমার আরও বলেন, ’এখন প্রতিটি ভিসার কাগজপত্র প্রপার চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে আবেদনকারীদের এ ধরনের জালিয়াতি দ্রুত ধরা পড়ছে।’

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, ’ভারতীয় ভিসা সেন্টার থেকে আমাদের ফোনে জানানো হয় যে এই অফিস থেকে দুজন কাগজপত্র জালিয়াতি করে ভিসার আবেদন করেছে। আমরা এসে দেখি তারা বিভিন্ন প্যাড বানিয়ে ব্যবসায়িক কাগজপত্র দাখিল করেছে। বিষয়টি তারা স্বীকারও করেছে। তারা যেটা বলছে তাদের সঙ্গে আরও লোকজন আছে। ভিসা সেন্টারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা