ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:২০ পিএম
টানা বর্ষণে মরিচারচর বালুর ঘাট মুন্সি বাড়িসংলগ্ন কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। প্রবা ফটো
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে টানা বর্ষণে দুটি কালভার্ট ভেঙে গেছে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের উচাখিলা বাজার থেকে মরিচার গ্রাম হয়ে ফাতেমা নগর (কালীবাজার) পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার অংশে দুটি কালভার্টের অবস্থান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মরিচারচর বালুর ঘাট মুন্সি বাড়িসংলগ্ন খালের পানিতে ভেঙে পড়ে আছে কালভার্ট। এলাকাবাসী জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রবল স্রোতে কালভার্টের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ভেঙে পড়ে। এখান থেকে উচাখিলা বাজারের দিকে একটু সামনে এগোতেই বটতলা মোড়সংলগ্ন আরও একটি কালভার্ট ভেঙে গেছে। ফলে উচাখিলা মরিচারচর, চরআলগী, টানপাড়া, টান মলামারি, মাইজপাড়া, হাশের আলগীসহ ১০ গ্রামের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও ঈশ্বরগঞ্জ, উচাখিলা, রাজিবপুর এবং ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে ত্রিশাল, কালীবাজার ও ময়মনসিংহে দৈনিক ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করে। তারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
চরআলগী গ্রামের আবুল কালাম বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক, ৫০০-৬০০ অটোরিকশা, সিএনজিসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। আমরা উচাখিলা ও ঈশ্বরগঞ্জ বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। রাস্তা ও কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কালভার্টগুলো দ্রুত মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।’
আমিনুল হক নামে একজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রবল স্রোতে কালভার্টের দুই পাশ থেকে মাটি সরে গিয়েছিল। এ ছাড়া কালভার্টগুলো পুরোনো ও জরাজীর্ণ ছিল। তাই মাটি সরে যাওয়াতে ভেঙে গেছে। এতে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী চরম বিপাকে পড়েছে।
মরিচার গ্রামের মাহাবুব আলম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, গতকাল শনিবার থেকে বৃষ্টি কমায় কিছু কিছু স্থানে পানি নামছে। যেখানে পানি নামছে, সেখানে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষতচিহ্ন। আঞ্চলিক সড়ক, কাঁচা রাস্তা ও কালভার্ট ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেড়িবাঁধ, ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ভেসে গেছে বীজতলা, ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) তৌহিদ আহমেদ বলেন, বৃষ্টিতে সারা দেশেই অনেক স্থাপনা ভেঙে গেছে। বিভিন্ন এলাকার ভেঙে যাওয়া স্থাপনার তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। সেগুলো দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজা জেসমিন বলেন, দুর্ভোগ নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে (এলজিইডি) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠানো হবে।