মেহেরাব হোসেন অপি, মেহেরপুর
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৩ ১২:২৬ পিএম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৩ ১৫:৪৬ পিএম
বিক্রির জন্য কলা ট্রাক ভর্তি করছেন শ্রমিকরা। প্রবা ফটো
রোগবালাই ও উৎপাদন খরচ কম আর বিপণনে বাড়তি ভোগান্তি না থাকায় মেহেরপুরের চাষিরা নিয়মিত ফসল ছেড়ে ঝুঁকেছেন কলা চাষে। গত এক বছরের ব্যবধানে মেহেরপুর জেলায় প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড পরিমাণ কলার আবাদ হয়েছে এ জেলায়। এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা এখন কলা চাষ ও বিপণনের সঙ্গে নির্ভরশীল।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২ হাজার ৫১৬ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৮২৬ হেক্টর বেশি জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৬ টন, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২২০ কোটি টাকা।
মেহেরপুরের কলাচাষিরা জানান, মেহেরপুরের তিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে রয়েছে কলার আবাদ। মূলত কলা চাষে ঝুঁকি কম ও অধিক লাভ থাকায় জেলার চাষিরা কলা চাষে ঝুঁকেছেন। মেহেরপুরে কয়েক জাতের কলা চাষ হলেও মেহের সাগর, সবরি ও বাইশ ছড়ি জাতের কলা অন্যতম। এসব জাতের কলা চাষে ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি।
সদরের আমদহ গ্রামের কলাচাষি লোকমান হোসেন জানান, এক বিঘা জমিতে কলা আবাদে খরচ হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ৪০০ কলাগাছের চারা লাগানো হয়। পরিপক্ব গাছ থেকে পাওয়া প্রতিটি কলার কাঁদি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। সে হিসাবে এক বিঘা জমি থেকে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করা সম্ভব। অধিক লাভ হওয়ায় এখন অনেক চাষি কলা চাষে ঝুঁকেছেন।
একই গ্রামের কলাচাষি নজরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর সাড়ে চার লাখ টাকা খরচে ১০ বিঘা জমিতে কলার আবাদ করেছেন। এখন পর্যন্ত বাগানে কলার ফলনের যা অবস্থা তাতে প্রতি বিঘার কলা ১ লাখ টাকা করে বিক্রি করতে পারবেন। সেই হিসাবে প্রায় ১০ লাখ টাকার কলা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
মেহেরপুর সদর উপজেলার বন্দর গ্রামের কলাচাষি মাসুদ হোসেন জানান, এবার কলার ফলন খুব ভালো হয়েছে। কলাগাছে ভালো কাঁদিও এসেছে। তবে কিছু গাছের কলা পোক্ত হওয়ার আগেই পেকে যাচ্ছে, যে কারণে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ গ্রামের কলাচাষি আইয়ুব হোসেন জানান, গত ১০ বছর মেহের সাগর কলা চাষ করে আসছেন। অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরও তিনি জমিতে কলার আবাদ করেছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে এ বছর কলা বিক্রি করে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন।
মেহেরপুর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকারিয়া পারভেজ জানান, মেহেরপুর কলা চাষের জন্য খুবই উর্বর। মেহেরপুরে মেহের সাগর, সবরি ও বাইশছড়ি জাতের কলা উৎপাদন করা হয়। এ বছরও মেহেরপুরে কলায় ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, মেহেরপুর কৃষিতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। গত বছর ১ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছিল, যা থেকে ১৫০ কোটি টাকার কলা উৎপাদন হয়েছিল। চলতি মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৫১৬ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮২৬ হেক্টর জমি বেশি এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৬ টন।