ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৩ ১২:১৬ পিএম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৩ ১২:২৬ পিএম
প্রতীকী ছবি
ফেনীর সোনাগাজীতে বেওয়ারিশ ও পাগলা কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। গত তিন মাসে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু-নারী ও প্রাপ্তবয়স্কসহ অন্তত ৫৫০ জন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছে।
এর মধ্যে জুলাই মাসে ১২৬ জন, আগস্টে ২৭৩ জন, সেপ্টেম্বরে ১৩৬ এবং চলতি মাসের গত পাঁচ দিনে কুকুরের কামড়ে আহত ১৫ জন আহত হয়েছে। কুকুরের কামড়ে রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় গত পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মো. সাদেকুল করিম বৃহস্পতিবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় লোকজন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাস ধরে হঠাৎ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। নারী-শিশুসহ সব বয়সি মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে হঠাৎ করে কুকুরের কামড়ের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত তিন মাস পাঁচ দিনে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে অন্তত ৫৫০ জন এবং সাপের কামড়ে ২০ রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত চার রোগী হাসপাতালে এসেছে। আহত রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরের কামড়ের বিষক্রিয়া থেকে হওয়া র্যাভিস রোগের ভ্যাকসিন না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ২৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলার চর সোনাপুর এলাকার ফাতেমা আক্তার নামে এক নারী বলেন, বুধবার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে তার ছেলে নজরুল ইসলাম একটি চিপস খেতে খেতে বাড়ির উঠানে আসে। ঘরে ঢুকার আগ মুহূর্তে হঠাৎ একটি কুকুর এসে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ডান হাতে কামড় দিয়ে টেনে তাকে মাটিতে ফেলে চিপসের প্যাকেটটি নিয়ে চলে যায়। এ সময় তিনি চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে কুকুরটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। কুকুরটি তাকে আক্রমণের চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন দিতে বলেন।
পৌর শহরের ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, গত তিন মাস ধরে পৌর শহর এলাকায়ও বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। খাবারের জন্য কুকুরগুলো বেপরোয়া হয়ে মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই অনেক শিশু ও বড়দের কামড়াচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যব্স্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ করেন।
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. সাদেকুল করিম বলেন, গত তিন মাস ধরে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাড়ে পাঁচশ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এ ছাড়া অনেকে স্থানীয় ক্লিনিক থেকেও চিকিৎসা নিয়েছে। তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন রোগীর শরীরে কুকুরের কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন শেষ হয়ে যাওয়ায় আহত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন নিতে বলছি।
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাশ বলেন, কুকুর ও সাপের কামড়ে আহত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও টিকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে গত পাঁচ দিন ধরে কুকুরের কামড়ের টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় এক হাজার টিকা সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগত রোগীদের আপাতত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।